রাজ্যসভার ডেপুটি দলনেতার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন রাঘব চাড্ডা (Raghav Chadha)। আপের প্রধানের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, কেন তাঁকে চুপ করানো হচ্ছে? রাঘব একাধিকবার সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে সংসদে সরব হয়েছেন। এবার তাহলে কেন আচমকা রাজ্যসভার ডেপুটি দলনেতার পদ থেকে সরানো হল? তার প্রতিক্রিয়াও মিলেছে আম আদমি পার্টির (AAP) তরফে।

ভিডিয়োবার্তায় রাঘব বলেছেন, ‘আপ (AAP) নেতৃত্ব রাজ্যসভাকে বলেছেন, আমায় যাতে আর বলতে দেওয়া না হয়। কেন? আমি তো বরাবর সাধারণ মানুষের সমস্যার কথাই বলেছি সংসদে। বিমানবন্দরের দামি খাবার, গিগ কর্মীদের সমস্যা, ব্যাঙ্কের বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। এতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়েছেন। আপের কী ক্ষতি হল? আমায় কেন চুপ করানো হচ্ছে?’ রাঘবের সাফ কথা, “আমাকে হয়তো নীরব করা যাবে, কিন্তু হারানো যাবে না। মানুষের পাশে থাকব। মানুষের কথা বলব।”

এর পাল্টা জবাব দিয়েছে আপ। দলের জাতীয় মিডিয়াপ্রধান অনুরাগ ধান্ডার জানিয়েছেন, “গত কয়েক বছর ধরে তুমি ভীত হয়ে পড়েছ রাঘব। তুমি মোদির বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পাও। তুমি দেশের আসল সমস্যাগুলো তুলে ধরতে ভয় পাও।” ধান্ডা আরও বলেন, “আমরা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সৈনিক। নির্ভীকতাই আমাদের প্রধান পরিচয়। যদি কেউ নরেন্দ্র মোদিকে ভয় পায়, তবে সে কি করে দেশের জন্য লড়বে?”

গত দু’বছর ধরে আপের কর্মসূচিতে গরহাজির থেকেছেন রাঘব। গত বছর দিল্লি বিধানসভার ভোটের প্রচারে তাঁকে দেখা যায়নি। এমনকি আবগারি দুর্নীতি মামলায় আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল মুক্তি পাওয়ার পরেও তাঁর সঙ্গে রাঘব দেখা করেননি। দলীয় কর্মসূচিতে শামিল না হলেও রাজ্যসভার অধিবেশনে এবং সমাজমাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে সরব হতে দেখা গিয়েছে রাঘবকে। যদিও আপের রাজ্যসভার নেতা সঞ্জয় সিংয়ের সঙ্গে তাঁর সমন্বয়ের অভাব অনেক সময়েই লক্ষ্য করা গিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে গিগ কর্মীদের অধিকার নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি। জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। টেলিকম সংস্থাগুলির রিচার্জ কেলেঙ্কারি নিয়েও সরব হয়েছেন। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ঠিক যে যে ইস্যুতে গত কয়েক মাসে রাঘব সরব হয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারও সেই সব বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করেছে বলে বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি।

–

–

–

–

–
–

