শ্যুটিং চলাকালীন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তোলপাড় টলিপাড়া। তালসারিতে ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে বিপত্তি। বিনা অনুমতিতেই চলছিল শুটিং। স্বাভাবিকভাবেই এরপরে অভিনেতার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। কেন, কী ভাবে ঘটল এই ঘটনা উত্তর খুঁজতে স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার-সহ আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যরা শনিবার ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬১(২), ১০৬(১) এবং ২৪০ ধারায় মামলা রুজু করল রিজেন্ট পার্ক থানায়। ওড়িশার বালাসোর জেলার তালসারি মেরিন থানাতে হওয়া ‘জ়িরো’ এফআইআরটি সংশ্লিষ্ট থানায় স্থানান্তর করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এদিকে শনিবার বিকেলে টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে মিলিত হলেন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস, ইম্পার প্রেসিডেন্ট পিয়া সেনগুপ্ত। সঙ্গে ছিলেন জুন মালিয়া, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, অরিন্দম শীল, পাপিয়া অধিকারি, ঋষি কৌশিক, দেবপ্রতিম দাশগুপ্ত, গৌরব, ঋদ্ধিমা, পারমিতা মুন্সী, কৌশিক গাঙ্গুলী, চূর্ণী গাঙ্গুলী, ঋত্বিক চক্রবর্তী, সৌরভ পালোধি প্রমুখ। উঠে এসেছে একটাই প্রশ্ন, কেন প্রযোজক সংস্থার গাফিলতিতে অসময়ে চলে যেতে হল রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে?


এদিন টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ান স্টুডিয়ো থেকে রাধা স্টুডিয়োর এই পথ ছিল জনবহুল। সিনেপ্রেমী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সকলেই যোগ দিয়েছিলেন এদিনের মিছিলে শুধুই সত্য উদ্ঘাটনের আশায়। অভিনেতা-অভিনেত্রীরা মিছিলে কালো ব্যাজ পরে অংশ নিয়েছিলেন। মিছিলে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন সহকর্মীরা। “আমি আগেও নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেছি বলে অনেক প্রোডাকশন হাউসের কাছে অপ্রিয়ও হয়ে গিয়েছি। মুম্বইয়ের প্রযোজনা সংস্থাগুলি তো এই ভাবে কাজ করে না। তাহলে এখানে কেন এরকম হবে?”, প্রশ্ন তুললেন জুন মালিয়া। ওয়েস্ট বেঙ্গল আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় জানান, ”পুলিশ আমাদের অভিযোগ নিয়েছে। আমরা প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে জিরো এফআইআর করেছি। পুলিশ কোনও গড়মসি করেনি। আইনজীবীর পরামর্শ মতোই সবটা হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপও আইনজীবীর পরামর্শেই হবে।” অভিনেতা জিতু কামাল নিজের সাদাকালো ছবিতে মালা পরিয়ে মিছিলে আনলেন, ”শুটিং চলাকালীন সেদিন আমারও মৃত্যু ঘটতে পারত। আমি আমার আর্টিস্ট ফোরামের কাছে চিঠি দিয়ে কমপ্লেন করলাম যে আমাকে গালি দেওয়া হয়েছে,যে প্রোডাকশনের জন্য আমি হসপিটালে ভর্তি হতে বাধ্য হলাম শুটিং চলাকালীন সেখানে সেক্রেটারি উপস্থিত ছিল। তারা কোন রকমের সদুত্তর দেয়নি। উল্টো আমি ফোন করে বলতে বাধ্য হলাম ঠিক আছে তোমরা যখন কিছু করবে না আর কি বলব! আমাকে আইনি পদক্ষেপ নিতে হল। এটা কি ফোরামের দায়িত্ব? আমি অনেক সিনিয়রকে ফোন করেছি কেউ কোনো উত্তর দেয়নি। কিন্তু যখন কোনো প্রোডাকশনের তরফ থেকে আর্টিস্টের নামে অভিযোগ করা হয় সঙ্গে সঙ্গে আর্টিস্টকে ডেকে তাকে কথা শোনানো হয়। তখন প্রশ্ন ওঠে জীতুর সঙ্গেই কেন অনভিপ্রেত ঘটনাগুলো হয়? একটা আর্টিস্ট ফোরামের সদস্য হওয়ার পরেও আমি যখন শুটিং করতে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলাম,আর্টিস্ট ফোরাম থেকে একটা মিনিমাম কল পর্যন্ত করা হয়নি। একদল হতাশ লোক ক্রমাগত পেছন থেকে ছুরি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে শিল্পীদের ক্ষতি করার চেষ্টা করে চলেছে। আর্টিস্ট ফোরামের প্রধান কাজ টেকনিসিয়ানে মৃত শিল্পীর পায়ে ফুল দান করা। ঠিক আছে আমিও নিশ্চয়ই আর্টিস্ট ফোরামের থেকে কোনো না কোনোদিন ফুল পাবো, এই আশা নিয়ে আর্টিস্ট ফোরামের সদস্য হয়ে থাকি।”


আরও পড়ুন – বীরভূমে ‘১১-০’ লক্ষ্য, কাজল শেখের হয়ে জয়ের ব্যবধান বেঁধে দিলেন অভিষেক

_

_

_

_

_
_
_
_
