ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে বুধবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ কালীঘাট থেকে বর্ণাঢ্য মিছিল করে আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ে মনোনয়ন জমা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রাস্তার দুপাশে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উন্মাদনার ছবিটা ধরা পড়ল। তৃণমূল সুপ্রিমোর সঙ্গে বিভিন্ন ধর্ম ও ভাষার মানুষেরা এদিন উপস্থিত ছিলেন। মনোনয়ন জমা দিয়ে বাইরে এসে, সকলকে ধন্যবাদ জানান মমতা। “সরকার আমরাই গড়ব”, নেত্রীর গলায় ধরা পড়ল আত্মবিশ্বাসের সুর।


মমতার মনোনয়নের মিছিলে সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা ফুটে উঠলো। নেতা-কাউন্সিলরদের পাশাপাশি প্রস্তাবক হিসেবে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের উপস্থিতি আর রাস্তার দু’ধারে জনোচ্ছ্বাস ফের বুঝিয়ে দিল ভবানীপুর কেন্দ্রে ঘরের মেয়ের জনপ্রিয়তা প্রশ্নাতীত। এদিন মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তাঁর কেন্দ্রের অবজারভারকে অনুরোধ করেন যাতে কোথাও কোনও বৈষম্য না হয়। মনোনয়ন কেন্দ্রে উপস্থিত সকলকে বাংলা নববর্ষের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানান তিনি। বাইরে এসে মমতা বলেন, “এই ভবানীপুরে আমার ধর্ম-কর্ম সবটাই রয়েছে। ছোটবেলা থেকে এখানেই আছি, এখানেই বড় হয়েছি। সকলকে ধন্যবাদ জানাই। ২৯৪ টা কেন্দ্রেই তৃণমূল প্রার্থীদের বাংলার মানুষ ভোট দিয়ে জয়ী করবেন। আমরাই সরকার গড়ব।” এদিন ভোটার তালিকার নাম বাদ যাওয়া নিয়ে ফের সরব মমতা। বলেন, যে ক’জনের নাম উঠেছে সেটাও সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে লড়াই করার জন্য। বিচারাধীনদের নাম কেন বাদ যাচ্ছে, শীর্ষ আদালতের নির্দেশেই তো নাম ওঠা উচিত। ভোটের পরে নাম তুলে কী হবে? তাঁরা তো আর গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না। এদিন নাম না করে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেন তৃণমূলনেত্রী। এই নিয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথাও শোনা যায় তাঁর মুখে।


এদিন হুগলি জেলার বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে জনসভা রয়েছে মমতার। দুর্যোগের আবহাওয়ার সকলকে সাবধান থাকার পরামর্শও দেন তিনি। এরপর সার্ভে বিল্ডিং থেকে ফের জনতার ভালোবাসায় ভেসে কালীঘাটের বাড়ির দিকে রওনা দেন দলনেত্রী।

–

–

–

–

–

–
–
–
