নির্বাচন এলেই সক্রিয় হয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, এটাই কেন্দ্রের বিজেপি সরকার জমানার দস্তুর। সেটাই আরও একবার ভয়ঙ্করভাবে প্রমাণ করে দিল দিল্লির সরকার। বাংলায় নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা আইপ্যাকের (IPAC) কর্ণধার ভিনেশ চান্ডেলকে (Vinesh Chandel) দিল্লি থেকে গ্রেফতার করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED)। তবে এভাবে বাংলাকে চুপ করিয়ে রাখা যাবে না, গ্রেফতারির পরেই ৫ মে অমিত শাহকে (Amit Shah) বাংলায় আসার হুংকার দিলেন তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।

এই সময়ে আইপ্যাকের সহঅধিকর্তার গ্রেফতারিকে ভয়ঙ্কর বার্তা বলে বর্ণনা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, বাংলার নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে আইপ্যাকের (IPAC) সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্ডেলের গ্রেফতারি (arrest) শুধুমাত্র উদ্বেগজনক নয়, এটা সকলের সমান সুযোগের ক্ষেত্রের ধারণাকেই নাড়িয়ে দেয়। ঠিক যে সময়ে একটি স্বচ্ছ ও মুক্ত নির্বাচনে দিকে বাংলার এগিয়ে যাওয়ার কথা, এই ধরনের পদক্ষেপ একটা ভয়ঙ্কর বার্তা দেয়, তুমি যদি বিরোধীদের সঙ্গে থাকো তবে তোমার নম্বরই পরেরটা। এটা গণতন্ত্র নয়, এটা ভয় দেখানো।

যে বিজেপি এজেন্সিকে দিয়ে দুর্নীতির নামে এই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাদের স্বরূপও খুলে দেন অভিষেক। দাবি করেন, এই ঘটনাকে অবহেলা করা যাচ্ছে না তার সবথেকে বড় কারণ এতে দ্বিচারিতা স্পষ্ট হয়। ভয়ঙ্কর দুর্নীতির অভিযোগ যাদের দিকে থাকে, তাঁরাই নিরাপত্তা পেয়ে যায় দল বদলালে, যেখানে অন্যরা খুব সহজে টার্গেট হয়ে যান যে কোনও রাজনৈতিক সুযোগ পেলেই। মানুষও আর এসব চোখ বুজে মেনে নেয় না। যখন গণতন্ত্রকে রক্ষা করার কোনও প্রতিষ্ঠান চাপ দেওয়ার যন্ত্রে পরিণত হয়, তখন বিশ্বাসের জায়গাটাই নড়ে যায়। একদিকে নির্বাচন কমিশন। অন্যদিকে ইডি, সিবিআই, এনআইএ-র মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (central agency) একটা স্পর্শকাতর সময়ে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এতে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, স্বচ্ছতার নয়।

সেই সঙ্গে এই ঘটনাকে গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক দাবি করে অভিষেকের প্রশ্ন, ভারত সবসময়ই নিজের গণতন্ত্রকে নিয়ে গর্ব অনুভব করেছে- যা সরব, ঝঞ্ঝাটের হলেও মুক্ত। কিন্তু এখন অনেকেই প্রশ্ন তোলা শুরু করেছে, এটাই কি সেই দেশ? এটা একটা গ্রেফতারির থেকেও অনেক বড় বিষয়। এখানে প্রশ্ন আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলি কি নিরপেক্ষ আছে, দেশের প্রত্যেক নাগরিক কি, তাঁদের রাজনৈতিক বিশ্বাস যা-ই হোক, ভয়মুক্তভাবে অংশগ্রহণ করতে পারছে? কারণ যখন ভয় স্বাধীনতাকে প্রতিস্থাপন করে, গণতন্ত্র মাত্র একটা শব্দ হয়েই থেকে যায়।

আরও পড়ুন : কয়লা-কাণ্ডে জালে আইপ্যাক কর্তা: দিল্লি থেকে গ্রেফতার ভিনেশ

বিজেপির এই ষড়যন্ত্রে যে কোনওভাবেই বাংলার মানুষ মাথা নত করবে না, তার চ্যালেঞ্জও অভিষেকের বার্তায়। সরাসরি অমিত শাহকে অভিষেকের চ্যালেঞ্জ, অমিত শাহ ও বিজেপির মদতদাতাদের বলছি, ৪ ও ৫ মে বাংলায় থাকবেন। জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) ও যে সব এজেন্সিগুলি (central agency) আপনারা নিয়োগ করেছেন, তাঁদের সবাইকে নিয়ে আসবেন। বাংলার উপর চোখ রাঙানি চলবে না, মুখ বন্ধ করা যাবে না, মাথা নত করা যাবে না। এটা এমন এক ভূমি যা প্রতিরোধ করে সব চাপের উত্তর দেয় এবং এবার বাংলা আপনাকে দেখাবে এর বাস্তব অর্থ কি।

The arrest of Vinesh Chandel, co-founder of I-PAC, barely 10 days before the Bengal elections, is not just alarming- It shakes the very idea of a level playing field.
At a time when WB should be moving toward free and fair elections, this kind of action sends a chilling message:…
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) April 13, 2026
–

–

–

