নির্বাচন কমিশনের তরফে সোমবারই পোস্ট করে বলা হয়েছিল, ভোটের দিন গোলমাল করলে, হাতের কাছে বার্নল, বোরোলিন রেখে দাও। এই হুঁশিয়ারির পাল্টা মঙ্গলবারের জনসভা থেকে নাম না করে বিজেপি-কমিশনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন তৃণমূল (TMC) সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। পিংলার কাঁচডিহা স্ট্যাক ইয়ার্ড মাঠে সবং কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মানস ভুঁইয়া ও পিংলা কেন্দ্রের প্রার্থী অজিত মাইতির সমর্থনে হয়ে প্রচার সভা করে দলনেত্রী। আর সেখানেই তিনি বলেন, “কাদের এত ভয় দেখাচ্ছেন? কাদের এত চমকাচ্ছেন? হিম্মত থাকলে সরাসরি মানুষের সাথে লড়াই করুন। বাংলাকে দখল করা সহজ নয়। বাংলাকে আজ কেন কোনদিনই তোমরা দখল করতে পারবে না।“ সভা থেকেই দলীয় নেতা-কর্মীদের ‘প্যারালাল মেশিনারি’-র ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

এদিন কমিশনের তরফে হুঁশিয়ারির দিয়ে পোস্ট করে বলা হয়, “গুণ্ডা, অপরাধীরা সাবধান। নিজেদের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে বার্নল ও বোরোলিন মজুত রাখুন। না হলে উত্তাপ এতটাই বাড়বে যে আপনারা পুড়ে যাবেন।“ এর পাল্টা সভা থেকে তীব্র কটা করে মমতা বলেন, “সার্কুলার দেওয়া হয়েছে, সেখানে বার্নল-বোরোলিনের কথা লেখা হয়েছে। কাদের এত ভয় দেখাচ্ছেন? যারা বলছে বার্নল দিয়ে পুড়িয়ে দেব, বার্নল রেখে দাও— তাদের বলুন তোমাদের জন্য আমাদের বার্নল নয়, আইসক্রিম দেব।” বিজেপি (BJP) বা কমিশনের নাম না করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তৃণমূল সভানেত্রী বলেন, “যাঁরা পিছন থেকে লড়াই করছেন, তাঁদের বলি হিম্মত থাকলে সরাসরি মানুষের ময়দানে এসে লড়ুন। বাংলার মানুষই তার জবাব দেবে।”
আরও খবর: প্রকাশ্যে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল! দলীয় প্রার্থীর অনুগামীর ‘হামলা’য় মাথা ফাটল নেতার

কেন আইসক্রিম? তার ব্যাখ্যা দিয়ে তৃণমূল সভানেত্রী বলেন, “এখন প্রচণ্ড গরম। আইসক্রিম খান, যাতে শরীরটা আইস থাকে। আপনাদের সঙ্গে আমাদের এইটুকুই তফাৎ। আমরা প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করি না।”

মমতার (Mamata Banerjee) অভিযোগ, তৃণমূলের বুথ এজেন্টরা যাতে ভোটকেন্দ্রে বসতে না-পারে, সেই কারণেই তাঁদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। দলনেত্রীর নির্দেশ, “প্যারালাল মেশিনারি তৈরি রাখতে হবে। এক জনকে গ্রেফতার করলে আর এক জন থাকবে। মা-বোনেদের এজেন্ট থাকবে।” এর পরেই তোপ দেগে তিনি বিজেপিকে তোপ দেগে মমতা বলেন, “তোমরা ভাবছ, নোংরা খেলা খেলবে? না, দুরন্ত খেলা খেলে তোমাদের পগার পার করব।”

পিংলার সভা থেকেও চিপ ঢুকিয়ে কারসাজি করা বিষয়ে হুঁশিয়ার থাকার পরামর্শন দেনন মমতা। এই সঙ্গে ভোটারদের নাম বাদ প্রসঙ্গে বলেন, ”ইলেকশন কমিশনের রিফর্মসে লজিস্টিকাল ডিসক্রিপেন্সি বলে কোনও কথা নেই। বাংলার বেলায় শুধু লজিস্টিকাল ডিস্ক্রিপেন্সি মানে বিজেপির মিসক্রিপেন্সি। আর্টিফিশিয়াল এজেন্সি দিয়ে তৃণমূলের সিটগুলি থেকে বেছে বেছে নাম কেটেছেন।” অভিযোগ মমতার।

–

–

–

–
–
–

