আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের নজরকাড়া কেন্দ্রগুলির মধ্যে অন্যতম ভাঙড়। তবে এবার শুধু রাজনৈতিক উত্তাপের কারণে নয়, বরং প্রার্থীর সংখ্যার নিরিখেও এই কেন্দ্র আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। গোটা রাজ্যের মধ্যে একমাত্র ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রেই প্রতিটি বুথে দু’টি করে ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই কেন্দ্রে মোট ১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামায় এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, কারিগরি কারণে একটি ইভিএমে বা ব্যালট ইউনিটে সর্বাধিক ১৬ জন প্রার্থীর নাম ও তাঁদের প্রতীক রাখা সম্ভব। যেহেতু ভাঙড়ে প্রার্থীর সংখ্যা সেই সীমা ছাড়িয়ে ১৯-এ পৌঁছেছে, তাই বাধ্য হয়েই প্রতিটি বুথে অতিরিক্ত একটি করে ব্যালট ইউনিট বসাতে হচ্ছে। এর আগে হাতেগোনা কিছু উপনির্বাচন বা পুরভোটে এমন দৃশ্য দেখা গেলেও, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে গোটা রাজ্যে ভাঙড়ই একমাত্র ব্যতিক্রম।
নির্বাচন পরিচালনার নিয়মানুযায়ী, এই ব্যবস্থায় ভোটারদের সামনে দু’টি ব্যালট ইউনিট পাশাপাশি রাখা থাকবে। প্রথম ইউনিটে থাকবে ক্রমানুসারে প্রথম ১৬ জন প্রার্থীর নাম ও প্রতীক। বাকি প্রার্থীদের নাম থাকবে দ্বিতীয় ইউনিটে। ভোটাররা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশের বোতাম টিপে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এক্ষেত্রে বিভ্রান্তি এড়াতে দ্বিতীয় ইউনিটের অব্যবহৃত বোতামগুলি ঢেকে দেওয়া হবে।
একটি বুথে দু’টি করে মেশিন থাকলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও গোলমাল না হয়, তার জন্য সংশ্লিষ্ট বুথগুলিতে বাড়তি নজরদারি চালানো হবে। সেখানকার ভোটকর্মীদেরও এই বিশেষ ব্যবস্থার বিষয়ে আলাদাভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, ভোটারদের সচেতন করতে এলাকায় আগাম প্রচারের পরিকল্পনাও নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ব্যালট ইউনিটের অবস্থান এবং ভোট দেওয়ার পদ্ধতি বোঝাতে মক পোল ও লিফলেটের সাহায্য নেওয়া হতে পারে। কমিশনের লক্ষ্য, প্রার্থীর ভিড়েও যাতে ভোটাররা কোনো ভুল না করে নির্বিঘ্নে নিজেদের রায় দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করা।
আরও পড়ুন- ভোটে EVM-VVPAT নিয়ে কড়া নজরদারি নির্বাচন কমিশনের
_
_

_

_

_

_

