বাংলাদেশের নতুন সরকার গঠনের পর এবার সে দেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত (India’s High Commissioner to Bangladesh) বদলের সিদ্ধান্ত নয়াদিল্লির। সূত্রের খবর প্রণয় বর্মাকে সরিয়ে দীনেশ ত্রিবেদীকে (Dinesh Trivedi) রাষ্ট্রদূত হিসেবে ঢাকায় পাঠানো সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন পর্ব মিটলেই এই সংক্রান্ত সরকারি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে জানা গেছে।

হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি (BNP)। খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক মসৃণ করার উদ্যোগ চলছে দু’তরফেই। গুজরাটি ঘরে জন্ম হলেও দীনেশ ঝরঝরে বাংলা বলেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত ছিলেন। শুধু রবীন্দ্রনাথ বা নজরুল সম্পর্কিত জানা-বোঝাই নয়, দুই বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্কে তিনি যথেষ্ট অবহিত। তাই পূর্ব ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে সুসম্পর্কের সুর আরও গভীর করে তুলতে পারবেন সেতারবাদক তথা প্রাক্তন সাংসদ, এমনটাই মনে করছে ভারত সরকার(Govt of India)। সেই কারণে অনেক ভাবনা চিন্তার পর কেন্দ্রীয় স্তরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও অফিসিয়াল ঘোষণা হয়নি।
দীনেশের ক্যারিয়ারের দিকে নজর দিলে দেখা যায় হিমাচল প্রদেশের বোর্ডিং স্কুল থেকে পড়াশোনার পর কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে কমার্সে স্নাতক হন। তারপর টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করার পর আটের আশির দশকে কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন তৃণমূল গঠন করেন, সেই দলে যোগ দেন দীনেশ এবং দলের প্রথম সাধারণ সম্পাদক হন। ২০০২-’০৮ পর্যন্ত রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ ছিলেন। ২০০৯ সালে বারাকপুর থেকে জোড়া ফুলের টিকিটে লোকসভা ভোটে জিতে কেন্দ্রের মনমোহন সিং সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী হন। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করার পর মমতার ছেড়ে আসা রেলমন্ত্রীত্বের দায়িত্ব সামলান দীনেশ। এর কয়েক বছর পর তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হলে জল্পনা সত্যি করে ২০২১ সালে পদ্ম শিবিরে যোগ দেন। এখন বিজেপিতেই রয়েছেন তিনি। শেষ মুহূর্তে বড় কোনও পরিবর্তন না হলে, আর কিছুদিনের মধ্যেই দুই বাংলার সম্পর্ক আরও মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দায়িত্ব নিয়ে ঢাকার পথে রওনা দেবেন দীনেশ ত্রিবেদী।

–

–

–

–

–
–
–
