আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক লড়াই পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিপক্ষে সেখানে প্রার্থী বিজেপি-ত্যাগী পবিত্র কর। পবিত্রর মতো নন্দীগ্রামের বিজেপি কর্মী সমর্থকরাও বিজেপির সঙ্গ ছাড়তে চাইছেন। নন্দীগ্রামের নির্বাচনী জনসভা থেকে ২০০৭ সালে বাংলাকে পথ দেখানো নন্দীগ্রামের (Nandigram) কথা স্মরণ করিয়ে ২৫ হাজারের বেশি ভোটে -জয়ের চ্যালেঞ্জ তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। তার কারণ হিসাবে অভিষেকের স্পষ্ট দাবি, দিল্লির নেড়ি কুক্তা হয়ে থাকার থেকে রয়্যাল বেঙ্গল হয়ে মরা ভালো।

পাঁচ বছর ধরে নন্দীগ্রামে বিধায়ক থেকেও সেখানে উন্নয়ন না করে ধর্মের নাম করে দিন কাটিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এবার নিজের বিধানসভা আসন বাঁচাতে সেই শুভেন্দু অধিকারীর বাবা শিশির অধিকারী পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে। সেই তোষণকে কটাক্ষ করে অভিষেকের তোপ, নিজের বিধানসভার সিট বাঁচানোর জন্য যোগী আদিত্যনাথের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা হচ্ছে। এই বিজেপি যারা ধর্মের নামে রাজনীতি করে। বিজেপির নেতারা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, স্বামী বিবেকানন্দর মূর্তি ভাঙে। অন্যদিকে যোগী আদিত্যনাথের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে। এই হচ্ছে বিজেপির দ্বিচারিতা।
আদতে তৃণমূলের দেখিয়ে দেওয়া পথে এগোয় বিজেপি। সেই ট্র্য়াডিশন তারা নন্দীগ্রামেও ছাড়েনি। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম থেকেই যে সেই পথ দেখান, তা নিয়ে অভিষেকের (Abhishek Banerjee) কটাক্ষ, আমি সেবাশ্রয় (Sebaashray) ক্যাম্প শুরু করলাম। তখন উনি হেল্থ ক্যাম্প (health camp) শুরু করলেন। দেখাদেখি করে কি লাভ। তাহলে অরিজিনালের সঙ্গেই থাকুন। ডুপ্লিকেটের সঙ্গে থাকবেন কেন? যে করছে, পরিষেবা দিয়েছে তার সঙ্গেই থাকুন।

নন্দীগ্রামে পরিষেবা প্রতিশ্রুতি ইতিমধ্যেই দিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর। তিনি সেতু তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নির্বাচনী প্রচার থেকে সেই সেতু নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের ৫০ দিনের মধ্যে শিলান্যাসের আশ্বাস দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়। সেই সঙ্গে ঘোষণা করে দিলেন, জ্ঞানেশ কুমারের (CEC Gyanesh Kumar) ক্ষমতা নেই আপনাদের ভোটাধিকার থেকে আপনাদের বঞ্চিত করবে। যদি মা-বোনেরা প্রতিরোধের রাস্তা বেছে নেয়, এই নন্দীগ্রামে (Nandigram) মাটিতে মানুষ আগামী দিনে মাথা উঁচু করে ভোট দেবে। এবং ২৫ হাজারের বেশি ব্যবধানে তৃণমূল প্রার্থী জিতবে।

তবে নন্দীগ্রামের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে নির্বাচনে জিততে সতর্কতার বার্তা অভিষেকের মুখে। তিনি নির্দেশ দেন, নন্দীগ্রামে আগেও কর্মিসভা করে বলে গিয়েছি রাতের অন্ধকারে অনেক কিছু হয়। রাত পাহারা দিতে হবে। পাড়ায় পাড়ায় পাহারা দিতে হবে। ভোটের আগের দিন অনেক কিছু বিতরণ করা হয়।

আরও পড়ুন : মাথা ঠাণ্ডা রাখুন! মোদির প্রতিশ্রুতির পাল্টা বকেয়া চেয়ে কটাক্ষ অভিষেকের

যেভাবে বিজেপি কেন্দ্রের ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও পরিষেবার প্রশ্ন অযোধ্যাতে হেরেছে, সেভাবেই এবার নন্দীগ্রাম থেকে শুভেন্দুর পরাজয় নিশ্চিত। সেই উদাহরণ টেনে অভিষেকের দাবি, যারা রামের নামে রাজনীতি করে, সেখানে রামমন্দির তৈরি হয়েছে সেই অযোধ্য়া (Ayodhya) বিজেপিকে হারিয়েছে। যতই করো রামের নাম-বিজেপি হারবে এবার নন্দীগ্রাম।

–
–
–
