চোপড়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর (Central Force) দাদাগিরি। বৃদ্ধা ও যুবককে মারধরের অভিযোগ, কাঠগড়ায় কমিশন ও বিজেপি। ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার নিদান, আর তাতে রাজি না হওয়ায় সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা ও তাঁর ভাইপোকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া বিধানসভা কেন্দ্রের ১৬২ নম্বর বুথে (মোহনগছ প্রাথমিক বিদ্যালয়) এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে বাহিনী চলার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। আহত মহিলা জানান, নিজের পছন্দে

ভোট দেওয়াই কি অপরাধ?
স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকালে ভোট দিতে বুথে গিয়েছিলেন ঝড়িমন নেশা নামে এক বৃদ্ধা এবং তাঁর ভাইপো সোহেল আখতার। অভিযোগ, বুথের ভেতর প্রবেশের পরেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাঁদের নির্দিষ্টভাবে বিজেপির প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। গণতান্ত্রিক অধিকারের সপক্ষে সওয়াল করে ওই বৃদ্ধা জানান, তিনি নিজের পছন্দমতো প্রার্থীকেই ভোট দেবেন। প্রতিবাদ করায় মেজাজ হারান জওয়ানরা। অভিযোগ, এরপরই ওই বৃদ্ধা ও তাঁর ভাইপোকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। লাঠির আঘাতে বৃদ্ধার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং সোহেল আখতারের হাতে চোট লাগে।
কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ এই নক্কারজনক ঘটনার পর এলাকাবাসীর নিশানায় এখন নির্বাচন কমিশন। স্থানীয়দের প্রশ্ন, বুথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বদলে বাহিনী কেন ভোটারদের প্রভাবিত করছে? কেন কেন্দ্রীয় বাহিনী শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট দলের হয়েই প্রচার বা জোরাজুরি করছে, তা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।
ঝড়িমন নেশা জানান, “ওরা আমাদের বলছিল পদ্মফুলে ভোট দিতে। আমি যখন বললাম আমার ভোট আমি যেখানে খুশি দেব, তখনই লাঠি দিয়ে মারতে শুরু করল। আমার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে ওরা।”সোহেল আখতার জানান, “গণতন্ত্রের নামে প্রহসন চলছে। বাহিনী আমাদের মারছে কারণ আমরা ওদের কথামতো ভোট দিইনি। নির্বাচন কমিশন কি ঘুমিয়ে আছে? বিজেপি যা বলছে বাহিনী তাই করছে।” যদিও এখনও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো সদর্থক পদক্ষেপ বা বাহিনীর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

–

–

–

–

–
–
–
