বাংলার প্রথম দফা নির্বাচনে রেকর্ড ভোটদানের হার নিয়ে মিথ্যে প্রচার করছে বিজেপি। এত সংখ্যায় ভোট পড়ায় আখেরে চতুর্মুখী লাভ হয়েছে তৃণমূলের, শনিবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই দাবি করলেন কুণাল ঘোষ। বেলেঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রের জোড়া ফুল প্রার্থী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক এদিন বলেন, যে ১৫২ টি আসনে ভোট হয়েছে তার থেকে চারটি বিষয়ে স্পষ্ট।

- ১) প্রথম দফার নির্বাচনে তৃণমূলের ভোট বাড়বে
- ২) ভোট পার্সেন্টেজ বাড়বে।
- ৩) তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান বাড়বে।
- ৪) মোট আসন বাড়বে।

যেভাবে বঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী- প্রধানমন্ত্রী ভোট প্রচারের নামে ক্রমাগত বাংলা ও বাঙালিকে অপমান করছেন মিথ্যাচার করে চলেছেন তার তীব্র বিরোধিতা করে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এদিন বলা হয় প্রথম দফা নির্বাচনের পর বিজেপি হার নিশ্চিত জেনে এভাবে প্যানিক রিঅ্যাশন দিচ্ছে। কুণাল বলেন, তৃণমূলের জয়ের ভিত পুজো হয়ে গেছে প্রথম দফার নির্বাচনে। দ্বিতীয় দফায় শুধু রেকর্ড ভাঙার পালা। যত বেশি ভোট তত বেশি জোরালো প্রত্যাবর্তন। অলটাইম রেকর্ড হবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়। এ যাবৎ কালের সবথেকে বেশি আসন জিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হবেন। তৃণমূল নেতা স্পষ্ট বলেন, বেশি ভোট পড়া নিয়ে পদ্ম দলের তরফ থেকে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। আসলে বিজেপির কোমর ভেঙে গেছে তাই ওরা বিষ ছড়াচ্ছে। গুন্ডাদের মতো ভাষা ব্যবহার করছেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আগামী দফায় আরও বেশি করে ভোট দিক সাধারন মানুষ। এবার গোটা দেশ দেখবে কীভাবে বাংলার মানুষ বাংলার মাটি থেকে বিজেপিকে উৎখাত করবে।

এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির নেতা ললিতেশ ত্রিপাঠী। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারে যেভাবে বাংলা ও বাঙালিকে অপমান করা হয়েছে তার প্রভাব পড়বে এবারের ইভিএমে।যেভাবে এসআইআরের নামে ভোটারদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে, বাংলার মানুষ যে তার জবাব দিয়েছেন প্রথম দফার এত সংখ্যক ভোটের হার তা প্রমাণ করছে।’ শহর কলকাতা নিয়ে অমিত শাহের মন্তব্যকেও নিন্দনীয় বলে আখ্যা দেন তিনি। তাঁর কথায়, আগামী ভোটে কলকাতার মানুষও এর জবাব দেবে। ললিতা সেদিন বলেন, ভারতীয় জনতা পার্টি যে পশ্চিমবঙ্গের লড়াই করার জন্য প্রস্তুত ছিল না সেটা তাদের ভোটের দিনে ফাঁকা বুথ দেখেই বোঝা যাচ্ছে। ২৯৪ আসনের প্রার্থীদের সিংহভাগ জনবিচ্ছিন্ন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা নিয়ে তো কোনও প্রশ্নই নেই, এমনকি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিটিং মিছিলে যা ভিড় হচ্ছে তার ধারে কাছেও নেই প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের জনসভা। এদিন শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করে ললি দেশ বলেন, দেশের মধ্যে এটা একটা নজির হতে চলেছে যে একজন প্রার্থী এভাবে দুটো জায়গা থেকেই হারবেন। বাংলা যেভাবে বিজেপিকে রুখে দিয়েছে আগামীতে তার প্রতিফলন গোটা দেশে ঘটবে বলেই আশাবাদী তিনি। সামনের বছর উত্তরপ্রদেশে ভোট, এখান থেকেই দেশে পরিবর্তন শুরু হবে। আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির পরাজয় নিশ্চিত, দাবি ললিতেশের।

–

–

–

–

–
–
–
