Thursday, June 25, 2026

লাগামছাড়া হিংসা মনিপুরে: দুই জনজাতির ৩ জনের মৃত্যু, গ্রামছাড়া শতাধিক পরিবার

Date:

Share post:

একদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন ব্যস্ত বাংলা দখলে, লাগামছাড়া হিংসার নজির রাখছে মনিপুর। তিন জনজাতি যেভাবে একে অন্যের উপর হামলায় ব্য়স্ত হয়েছে, তাতে যেভাবে কেন্দ্রের সরকারের হিংসা নিয়ন্ত্রণে বড়সড় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তার নামগন্ধও নেই। খোদ প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Home Minister) ব্যস্ত বাংলায় নির্বাচন জিততে। এই পরিস্থিতিতে কুকি (Kuki-jo), মেইতি (Meitei) জনগোষ্ঠীর পরে এবার নাগা (Naga) জনগোষ্ঠীও হিংসার পথ বেছে নিল। অভিযোগ, উখরুলে (Ukhrul) নাগাদের হামলায় তছনছ কুকি গ্রাম। ২ কুকি বাসিন্দা ও ১ নাগা বাসিন্দার মৃত্যুর অভিযোগ করা হয়েছে।

মেইতি গোষ্ঠীর দুই শিশু মৃত্যুর ঘটনার জেরে রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিদিন বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন মেইতি মহিলারা। তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে নাগা জনজাতি গোষ্ঠীও। তবে প্রতিবাদে আদৌ মেইতিদের বিচার দেওয়ার বদলে তাঁদের উপরই দমননীতি জারি রেখেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, অভিযোগ মেইতিদের। মুখরক্ষায় কেন্দ্রীয় বাহিনী কুকি অধ্যুষিত এলাকায় ঢুকে কুকি ভিলেজ ভলান্টিয়ারদের (KVV) গ্রেফতার করে। তার জেরে পরিস্থিতি আবারও অশান্ত হয়ে ওঠে। গ্রেফতারির ফলাফল কি হতে পারে তা না ভেবেই যেভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force) পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে কুকি জঙ্গিগোষ্ঠীর হামলা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

লাগাতার কুকি হামলায় বিভিন্ন জনজাতির সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের মৃত্যুরও অভিযোগ ওঠে। ২ নাগা জনজাতির মানুষের মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ নাগারা শুক্রবার ভোর রাতে হামলা চালায় উখরুল জেলার একাধিক গ্রামে। মুলাম, সংফেল, মোংকট চেপু, সাংকাই, জালেনবাং প্রভৃতি গ্রামে নাগা (Naga) জঙ্গি গোষ্ঠী টাংখুল নাগা লং (TNL) হামলা চালায় বলে অভিযোগ কুকিদের। বহু কুকি জনজাতি পরিবার গ্রাম ছেড়ে জঙ্গলে আশ্রয় নেয়।

এরই মধ্যে শনিবার সকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় বাহিনী উখরুলের গ্রামগুলিতে প্রবেশ করে। গ্রামগুলি কার্যত ফাঁকা পায় তারা। সেখান থেকেই সেনাবাহিনী পোশাক পরা দুজনের দেহ উদ্ধার হয়। কুকিদের তরফে দাবি করা হয় তাঁরা কুকি ভিলেজ ভলান্টিয়ার, যাঁরা গ্রাম পাহারার কাজে ছিলেন। গ্রামে ঢুকে নাগারা গ্রামে বহু বাড়ি ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি নিরীহ গ্রামবাসীদের উপর গুলি চালানো হয়, অভিযোগ কুকিদের।

অন্যদিকে হামলার দায় অস্বীকার করে নাগা জনজাতি গোষ্ঠী (TNL)। তাঁরা পাল্টা দাবি করে, জাতীয় সড়কে কুকি হামলায় তাঁদের জনজাতির ২ জনের মৃত্যু হয়। তারই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ তারা করেছিল শুক্রবার। তাঁরা তারপর থেকে নিজেদের গ্রাম আগলাতেই ব্যস্ত ছিল তারা। এমনকি কুকি জঙ্গিদের হামলার অভিযোগও করে তাঁরা। উখরুলে সিনাকেইথেই গ্রামে কুকি ভিলেজ ভলান্টিয়ারদের (KVV) হামলায় তাঁদের জনজাতির এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ করে নাগারা।

আরও পড়ুন : বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশের গুলি: মনিপুরে অনুষ্ঠান ঘিরে রণক্ষেত্র মনিপুর, গুলিবিদ্ধ ১

পরিস্থিতির উপর যে মনিপুর প্রশাসন বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই, স্পষ্ট দুই গোষ্ঠীর দাবিতে। কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force) আদতে যে এলাকা সম্পর্কে কোনও ধারণা ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে আরও অশান্তিকেই বাড়িয়ে তুলছে, এমন দাবিও করছে মনিপুরের জনজাতি গোষ্ঠীগুলি। কুকিদের দাবি, নাগারা শুক্রবার যেভাবে হামলা চালিয়েছে, সেটা যুদ্ধ ঘোষণার সামিল। এর পাল্টা জবাব দিতে যে কুকিরা প্রস্তুত তা এই বক্তব্যেই স্পষ্ট। যদিও তাঁদের দাবি, নাগাদের পিছনে রাষ্ট্রের শক্তি রয়েছে। হামলা চালিয়ে তারা কেন্দ্রীয় বাহিনীর হেলিকপ্টারে পালিয়ে গিয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। তবে আগামী দু-একদিনে পরিস্থিতি যে আরও অশান্তির দিকে এগোচ্ছে, তা স্পষ্ট দুই গোষ্ঠীর হুমকিতে।

Related articles

‘কোনো রেজিস্টার ছিল না’, ধ্বংসস্তূপে ঠিক কতজন আটকে স্পষ্ট নয় প্রশাসনের কাছেও

তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদামে ঠিক কতজন শ্রমিক সেই সময়ে কাজ করছিলেন, সঠিক কোনও হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। ওই গুদামে...

মিলল না স্বস্তি! সুমিতকে আগাম জামিন দিল না হাই কোর্ট

তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banrjee) আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে (Sumit Ray) এখনই আগাম জামিন দিল...

আর জি কর মামলায় CBI-কে ভর্ৎসনা হাই কোর্টের, কী দাবি পরিবারের

আর জি কর হাসপাতালের (RG Kar Case) তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুন মামলায় সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে ফের অসন্তোষ...

ডুরান্ডের দিনক্ষণ ঘোষণা, কলকাতা লিগে একই গ্রুপে মোহন-ইস্ট

ঢাকে কাঠি পরে গেল নতুন মরশুমের। একইদিনে ডুরান্ড কাপ (Durand Cup)এবং কলকাতা লিগের(CFL) গ্রুপ বিন্যাস হল। একইসঙ্গে সরকারিভাবে...