দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের পুলিশ অবজ়ার্ভারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে IPS অফিসার পুরুষোত্তম দাসকে। যদিও প্রথম থেকেই তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগে কমিশনেরও দ্বারস্থ হয়েছে। এবার ফলতা বিধানসভা (Falta assembly) কেন্দ্র থেকে নতুন অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য রাজ্য রাজনীতিতে। রবিবার রাতভর ফলতার বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে সিআরপিএফ (CRPF) বর্বরোচিত অত্যাচার ও অভিযান চালিয়েছে। সোমবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে একটি ভিডিও ফুটেজ তুলে ধরে ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন ডাক্তার শান্তনু সেন (Santanu Sen)।

তৃণমূল ভবন থেকে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে দলের মুখপাত্র ডাক্তার শান্তনু সেন এবং ঋজু দত্ত জানান, রাতের অন্ধকারে মহিলাদের ওপর কেন্দ্রীয় বাহিনীর বর্বরোচিত অত্যাচার, নির্বাচন কমিশনের নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্ব এবং তৃণমূল সাংসদের ওপর বিজেপির প্রাণঘাতী হামলা করছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ফলতা বিধানসভা (Falta assembly) কেন্দ্রে রাতের বেলায় পুলিশ অবজারভার (police observer) ও কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force) একটি বাড়িতে বেআইনিভাবে তল্লাশি চালিয়েছে। বাড়িতে কোনও পুরুষ সদস্য না থাকা সত্ত্বেও জোর করে ঢুকে মহিলা ও শিশুদের ওপর অত্যাচার ও শ্লীলতাহানি করা হয়েছে।
শান্তনু সেন বলেন, ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে (CJI) বাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলনেতা ও অমিত শাহের মনোনীত ব্যক্তিকে নিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। এরপর থেকেই বাংলায় চিফ সেক্রেটারি, হোম সেক্রেটারি থেকে শুরু করে ১৩ জন জেলাশাসক, ১৪৪ জন আইসি-ওসি এবং ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সারা দেশের ৫৪৩টি আসনের জন্য যেখানে ৩৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল, সেখানে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুধু বাংলার জন্যই ২৪০০ কোম্পানি বাহিনী পাঠানো হয়েছে। প্রথম দফায় ৮৪ জন এবং দ্বিতীয় দফার আগে আরও ১১ জন-সহ মোট ৯৫ জন পুলিশ অবজারভার পাঠানো হয়েছে রাজ্যে।

এই পুলিশ অবজারভারের (police observer) বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ্যে এনে শান্তনু সেন বলেন, ওই অবজারভার আলিপুরের আইপিএস ক্যাম্পাসে না থেকে ডায়মন্ড হারবারের (Diamond Harbour) সাগরিকা হোটেলের ২০৮ নম্বর রুমে বসে বিজেপি প্রার্থী গৌর ঘোষের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন। এই বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন : এটাই বিজেপির ‘নারীশক্তি! মিতালির উপর হামলায় সরব সাগরিকা

এই প্রসঙ্গে ঋজু দত্ত বলেন, এটি সম্পূর্ণ অবৈধ, অসাংবিধানিক ও অপরাধমূলক কাজ। তৃণমূল কংগ্রেস স্পষ্ট জানাচ্ছে- বিজেপির নির্দেশে যে আধিকারিকরা এই কাজ করছেন, তাদের নামে এফআইআর ও চার্জশিট হবে। বাংলার আদালতে তাদের হাজির করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কেউ পার পাবে না।

–

–
–
–
