নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে কলকাতা হাই কোর্ট। তার প্রমাণও মিলেছে কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপে। বিজেপির দায়ের করা অভিযোগে তড়িঘড়ি তিলকে তাল করে মাঠে নেমেছে কমিশন (ECI)। আবার তৃণমূলের অভিযোগে কোনও পদক্ষেপ হয়নি। তবে অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়মে চলতে তৃণমূলের (TMC) তরফে কোনও পদক্ষেপের ঘাটতি রাখা হয়নি। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের (second phase election) আগের দিনও তিন অভিযোগে কমিশনে বিদায়ী মন্ত্রী শশী পাঁজা (Shashi Panja) ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়।

মূলত যে অভিযোগ মঙ্গলবার কমিশনে দায়ের করেন তা হল – বেআইনি অর্থ উদ্ধার, নিয়ম ভেঙে রাজনৈতিক নেতৃত্বদের বাড়িতে তল্লাশি ও হানাদারি এবং নির্দেশিকা সত্ত্বেও বিভিন্ন এলাকায় বহিরাগতদের (outsider) উপস্থিতি। তৃণমূলের তরফে শশী পাঁজা ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশন মৌখিক নিয়ম বানিয়ে নির্বাচনী এজেন্টদের গ্রেফতারির চেষ্টা করে নির্বাচনেরই নিয়ম ভাঙছে।
সম্প্রতি একাধিক জায়গা থেকে বিজেপির নেতা কর্মীদের, কখনওবা প্রার্থীর গাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে টাকা। তৃণমূলের তরফে এরকম সাতটি উদাহরণ তুলে ধরে কমিশনের সিইও মনোজ আগরওয়ালের (CEO Manoj Agarwal) কাছে অভিযোগ জানানো হয়। প্রতিটি ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ও সময়মাফিক তদন্তের দাবি জানানো হয়।

কমিশনের বসানো পুলিশ পর্যবেক্ষকদের রাজনৈতিক কর্মী, বিশেষত তৃণমূল নেতা-কর্মী, এমনকি প্রার্থীদের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা দেশে। যেভাবে সাড়ে তিন হাজার নেতাদের নামে তালিকা প্রকাশ করে নতুন করে গ্রেফতারির নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন, কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়েরের জেরে তা রাতারাতি তুলে নিতে বাধ্য হয়েছে তারা। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনে (ECI) তৃণমূলের (TMC) দাবি, যেন কোনও মৌখিক নির্দেশে নিয়ম ভেঙে গ্রেফতারি না হয়।

আরও পড়ুন : রাত পোহালেই ভোট: ভার্চুয়াল বৈঠকে তৃণমূল নেতৃত্বের ১০ নির্দেশ প্রার্থী থেকে এজেন্টদের

এলাকায় বহিরাগত (outsider) প্রবেশ নিয়ে জোরালো দাবি করা হয় নির্বাচন কমিশনে তৃণমূলের তরফে। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উদাহরণ তুলে ধরে অভিযোগ জানানো হয়। বহিরাগত (outsider) প্রবেশ করিয়ে ভোট দেওয়ানোর চেষ্টা চলছে বলে যেমন অভিযোগ করা হয়, তেমনই বহিরাগতদের এজেন্ট (polling agent) করানোরও অভিযোগ করা হয়। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি বুথে এজেন্ট দিতে না পেরে বহিরাগত নিয়ে এসে ভবানীপুরে এজেন্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সেক্ষেত্রে আবাসিক নয়, এমন লোকেদের উপর কড়া নজরদারির দাবি জানানো হয়।

–

–
–
–
