রাজস্থানের (Rajsthan) নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ধূ ধূ মরুভূমি, উটের সারি আর রঙ-বেরঙের শাড়ি পাগড়ি পরা মানুষ। এই সংস্কৃতির মুকুটে এক উজ্জ্বলতম পালক কালবেলিয়া নৃত্য (Kalbelia dance)। কাল অর্থাৎ সাপ আর বেলিয়া শব্দের অর্থ বন্ধু। তবে স্থানীয়দের কাছে এই নাচনীদের মেলে না সম্মান। গ্রামের শুরুতে বা শেষে বসবাস করেন তাঁরা। ২০১০ সালে ইউনেস্কো (UNESCO) এই শিল্পরূপকে ‘অস্পৃশ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ (Intangible Cultural Heritage)-এর মর্যাদা দিয়েছে।

কালবেলিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ মূলত যাযাবর। ইতিহাস বলে, একসময় সাপের খেলা দেখানো এবং সাপের বিষ সংগ্রহ করাই ছিল তাঁদের প্রধান পেশা। গুরু গোরক্ষনাথের দ্বাদশ শিষ্য কাঁনীপাকে তাঁরা নিজেদের আদিপুরুষ মনে করেন। গ্রাম থেকে গ্রামে ঝুড়িতে সাপ নিয়ে ঘোরার সময় পুরুষরা যখন ‘পুঙ্গি’ (বিণ) বাজাতেন, মহিলারা তখন সর্পিল ভঙ্গিতে সেই সুরের ছন্দে মেতে উঠতেন। কালবেলিয়া নাচের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর গতি এবং নমনীয়তা। কালো রঙের কারুকাজ করা ঘাগরা পরে নর্তকীরা যখন মঞ্চে পাক খান, তখন তাঁদের শরীরের ভঙ্গি হুবহু সাপের মত থাকে। আরও পড়ুন: মদ্যপানের জল না দেওয়ায় নাবালককে মর্মান্তিক হত্যা যোগীরাজ্যে
নাচের সময় মহিলাদের পরনে থাকে ‘অঙ্গারখি’ এবং ‘কালিও’ (ঘাগরা)। যা কালো রঙের হয় এবং যাতে রুপোলি সুতো ও কাঁচের ছোট ছোট আয়নার (Mirror work) সূক্ষ্ম কাজ থাকে। এই কালো পোশাক সাপের গায়ের রঙের প্রতীক। নাচের আসরে তাঁরা যখন আসেন মুখে তাঁকে চড়া মেকআপ। চোখ ও শরীরের ভঙ্গিতে থাকে এক ধরনের যৌন আবেদন। পুরুষরা সাধারণত বিণ বাজান এবং মহিলারা গান ও নাচ করেন। এটি প্রচণ্ড পরিশ্রমসাধ্য একটি শিল্প। নাচের মাঝপথে শিল্পীরা অদ্ভুত সব অ্যাক্রোব্যাট বা শারীরিক কসরত দেখান। কখনও পিঠ বাঁকিয়ে মাটি থেকে টাকা তুলে নেওয়া, আবার কখনও চোখের পলকে অসম্ভব সব ভঙ্গিমায় নিজেদের নমনীয়তা প্রদর্শন করা—যা দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে।

আজ শুধু বারমের, জয়সলমের বা যোধপুর নয়, কালবেলিয়া নাচের রেশ পৌঁছে গেছে লন্ডন থেকে নিউ ইয়র্ক। গুলাবো সাপেরার মতো শিল্পীদের হাত ধরে এই নাচ বিশ্ব-পরিচিতি পেয়েছে। পেশার তাগিদে এখন আর তাঁরা সাপ ধরেন না ঠিকই, কিন্তু তাঁদের নাচের প্রতিটি মুদ্রায় আজও সাপের সেই রাজকীয় ভঙ্গি অমলিন।

–

–

–

–
–
–
