প্রথমবার বাংলায় বিজেপির সরকার। বারবার দশকের পর দশক ধরে যে রাজনৈতিক দলকে বহিরাগত তকমা পেতে হয়েছে, বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলার ক্ষমতা দখলের পরে তাদেরই ‘তোমাদেরই লোক’ প্রমাণের মরিয়া চেষ্টা একেবারে শপথের (oath taking) মঞ্চ থেকে। তাই একদিকে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে (Brigade Parade Ground) যেমন উৎসবের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চলেছে, তেমনই সেই উৎসবের মধ্যে দিয়ে কোনওভাবেই যাতে উত্তর ভারতের সংস্কৃতি ঢুকে না পড়ে, তা নিয়েও সতর্ক বিজেপি (BJP) নেতৃত্ব। তাই মাঠে খাবার থেকে সাজসজ্জা – সবেতেই বাঙালিয়ানা বজায় রাখতে সতর্ক বিজেপি। সন্তপর্ণে এড়িয়ে যাওয়া হল ব্রিগেড মাঠের আমিষ বিতর্ক।

আগেই ঘোষণা হয়েছিল, ব্রিগেডের শপথের মঞ্চে বাংলার সংস্কৃতির উপস্থাপনা হবে। সেই মতোই পাশে সাংস্কৃতিক মঞ্চে সকাল থেকে আয়োজন করা হয় নাচগানের। সেখানে একাধারে ছিল বাঙালির প্রিয় ধুনুচি নাচ (Dhunuchi dance)। ঢাকির দলের উপস্থিতিতে ছিল মন মাতানো রাইবেশের (Raibeshe) পরিবেশনা। ছিলেন ছৌ শিল্পীরা (Chhou artists)। মঞ্চের বাইরে রাস্তার ধার ধরে তাঁরা নিজেদের শিল্প তুলে ধরেন। আবার বাউল গানের অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।

বাঙালির অনুষ্ঠানে খাবারের আয়োজন থাকবে না তা হতেই পারে না। বাংলার বিধানসভা নির্বাচন আবহে বাংলার ‘প্রধান খাবার’ হিসাবে ঝালমুড়িকেই প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নির্বাচনে জেতার পর থেকে বারবার বিজেপি নেতাদের মুখে ঝালমুড়ি নিয়ে সেলিব্রেশনের কথা উঠে এসেছে। ব্রিগেডের উৎসবের মঞ্চের পাশেও আয়োজন করা হয়েছিল ২০টি ঝালমুড়ির (jhalmuri) স্টলের। সেই সঙ্গে আয়োজন করা হয়েছিল মিষ্টির। কমলা রসগোল্লা (Rasgolla) থেকে পদ্মফুলের মিষ্টি, শঙ্খের মিষ্টি, কোনওটি আবার কমলা (orange) পদ্মের উপর সাদা শঙ্খ। তবে অতি সন্তর্পণে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে কোনও আমিষ (non-veg) খাবার। এক সময়ে এই ব্রিগেডের মাঠে আমিষ খাবার বিক্রি নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিল বিজেপি। সেই বিতর্কের রেশ জারি ছিল নির্বাচন পর্যন্ত। নতুন সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকে সেই সব বিতর্ককে যে ধামাচাপা দিয়েই এগিয়ে যেতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব, শপথ অনুষ্ঠানে সেটাই প্রমাণ করে দিলো নেতৃত্ব।

আরও পড়ুন : বর্ণাঢ্য ব্রিগেডে গৈরিক আমেজ, মাদল-ছৌ নাচ-বাউল সুরে বাঙালিয়ানায় শান!

তবে বাঙালি যে শুধু সঙ্গীত ভাবনা ও খাবারে বাঁচে না, তাঁদের সঙ্গে যে শিল্প-স্থাপত্যের ঐতিহাসিক যোগাযোগ রয়েছে, তা প্রমাণেও মরিয়া বিজেপি। তাঁদের ব্রিগেড সজ্জায় উঠে এলো কোচবিহারের মদন মোহন মন্দির, জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির, দার্জিলিংয়ের মহাকাল মন্দির, কালিয়াগঞ্জের কালি মন্দির, উত্তর দিনাজপুরের বল্লা কালি মন্দিরের গেট তৈরি করা হয়। আবার ভারসাম্য রাখতে মালদহের গৌড় স্থাপত্য, পলাশির গেটও রাখা হয় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। তুলে ধরা হয় ঘূর্ণির মৃৎশিল্পীরদের শিল্পকাজ।

–

–

–
–
–

