বিজেপিকে রুখতে এবার বাংলায় বাম-অতিবাম-সহ বিজেপি (BJP) বিরোধী সবদল নিয়ে জোটের বার্তা দিলেন তৃণমূল (TMC) সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শনিবার, কালীঘাটের বাড়ির সামনে রবীন্দ্র জয়ন্তীর অনুষ্ঠান থেকে এই বার্তা দেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর কথায়, “জোট বাঁধুন। আমরা সবাই চাই একটা যৌথ প্ল্যাটফর্ম তৈরি হোক। সেই প্ল্যাটফর্মে সব রাজনৈতিক দল যারা বিজেপির বিরুদ্ধে- এমনকী আপনারা যদি বলেন বামপন্থী- আমার কোনও ইগো নেই- আমি সবাইকে নিয়েই চলতে চাই।“

এর পরেই মমতা (Mamata Banerjee) বলেন, “বাম (Left), অতিবাম (Ultra Leftist), যে কোনও জাতীয় দল, যে যেখানে আছেন, আসুন আমরা জোট বাঁধি। আমরা তৃণমূল কংগ্রেস কথা দিচ্ছি, জাতীয় দল যার যতটুকু শক্তি আছে- দিল্লিতেও যেমন আমরা লড়াই করব। তেমন বাংলাতেও আসুন আমরা জোট বাঁধি।“ অবারিত দ্বার বোঝাতে তিনি বলেন, “যদি এবিষয়ে আমার সঙ্গে কেউ কথা বলতে চান, আমি ৪টে থেকে ৬টা পর্যন্ত অ্যাভেইএবল আছি অফিসে। আমাকে জানাবেন। আমি নিশ্চয়ই আপনাদের সঙ্গে কথা বলব।“

তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “আমাদের নীতি-নৈতিকতার লড়াই আজ থেকে শুরু হবে। আমাদের শুভ শক্তির উদয় হোক এবং মানুষের মঙ্গল হোক। আজকের দিনে যাঁরা এসেছেন- বিশেষ করে সব বিশিষ্ট মানুষদের এবং যারা ভয় পেয়েছেন- তাঁদের আমি বলব যাঁর ইচ্ছে হবে মানসিকভাবে নীতিগতভাবে, তাঁরা নিজেদের মাটির টানে, শিকড়ের টানে একত্রিত হবেন এটা আমি বিশ্বাস করি। তাই আমাদের এখানে যারা উপস্থিত হয়েছেন সবাইকে অনেক অনেক প্রণাম এবং অভিনন্দন জানাচ্ছি।“

সর্বভারতীয় ক্ষেত্রেও বিজেপি-বিরোধী দলগুলি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলে ডানান তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর কথায়, “দিল্লির অল ইন্ডিয়ার সব লিডার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সোনিয়া জি, রাহুল গান্ধী সবাই কথা বলেছেন। চারিদিকে একটা সন্ত্রাসের বজ্রপাত চলছে। ভয় না পেয়ে বাংলার যত বিজেপিবিরোধী দল আছে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে আমি আবেদন জানাচ্ছি, সমস্ত ছাত্র সংগঠন, সাধারণ মানুষ তাঁদের সবাইকে নিয়ে জোট বাঁধুন। আমরা সবাই চাই একটা যৌথ প্লাটফর্ম তৈরি হোক। যে প্লাটফর্মে অল পলিটিক্যাল পার্টি যাঁরা বিজেপির বিরোধী। আপনারা যদি বলেন বামপন্থী তাহলেও আমার কোনও ইগো নেই- আমি সবাইকে নিয়েই চলতে চাই। আজকে যা অবস্থা-বিজেপিকে রুখতে হয় লেফটিস্ট, আল্ট্রা লেফট, কংগ্রেস সবাইকে আমরা কথা দিচ্ছি ন্যাশনাল পার্টি সবাইকে যার যতটুকু শক্তি আছে দিল্লিতেও আমরা যেমন লড়াই করব, তেমন বাংলা তো আসুন আমরা জোট বাঁধি। যদি এ ব্যাপারে কোনও রাজনৈতিক দল আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চান আমি চারটে থেকে ছটা পর্যন্ত আছি অফিসে। আমাকে জানাবেন আমি নিশ্চয়ই আপনাদের সঙ্গে কথা বলব।“

এর পরেই তৃণমূল সুপ্রিমোর বার্তা, “এখন কিন্তু এটা ভাবার সময় নয় যে আমি কে আর ও-কে। শত্রু শত্রু বন্ধু- এখন ভাবার সময় নয়। আমাদের প্রথম শত্রু হচ্ছে বিজেপি। রাজনৈতিকভাবে যারা দেশের ভালো চায় না, বাংলার ভালো চায় না। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে কিন্তু লড়াইটা সবাইকে করতে হবে। আমি তো লড়বই। কিন্তু বিজেপি বিরোধী যারা সমস্ত এনজিও, অনেক পলিটিকাল দল আছে- যারা সামাজিক কাজ করে তাদের সবাইকে আবেদন করব নিউট্রাল অনেক প্ল্যাটফর্ম আছে তাদেরকেও আবেদন করব। যাঁদের ব্যবসা নেই তাঁরা কিন্তু দয়া করে এই আবেদনে সাড়া দেবেন।“
আরও খবর: পালাবদলের পরেই ‘গণশক্তি’-র পাতাজোড়া রাজ্যের বিজেপি সরকারের বিজ্ঞাপন!

ফল বেরনোর পর থেকেই স্যোশাল মিডিয়ায় তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ বহু মানুষ বিগত শাসকদল বিরোধী না না কথা বলছেন। তাঁদের নাম না করে, তৃণমূল সভানেত্রী বলেন, “যাঁরা যেতে চায় তাদের চাওয়ার আমি অনুমতি দিচ্ছি এবং যারা আসতে চায় তাদের আসার জন্য আবেদন জানাচ্ছি।“

–

–
–
–

