রাজ্যে পালাবদল ঘটতেই সিপিআইএমের (CPIM) দৈনিক মুখপত্র ‘গণশক্তি’-র (Ganashakti) পাতাজোড়া রাজ্য সরকারের বিজ্ঞাপন। বাংলায় বিজেপি সরকার আসতেই শিকে ছিঁড়ল সিপিএমের দৈনিক মুখপত্রের। তবে, বিজেপির বিজ্ঞাপন এই প্রথম নয়, এর আগেও মোদি সরকারের বিজ্ঞাপন পেয়েছে ‘গণশক্তি‘। তা নিয়ে সিপিআইএম-কে কটাক্ষ করেছিল তৃণমূল (TMC)। এবার ফের রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই সরকারি বিজ্ঞাপন পেল ‘গণশক্তি’। এখন প্রশ্ন, যে বিজেপিকে বাংলায় আটকাতে বিধানসভা ভোটের আগে প্রচার করেছে সিপিএম, বিজেপিকে দেশের প্রধান শত্রু বলছে- সেই বিজেপি (BJP) সরকারের পাতা জোড়া বিজ্ঞাপন কীভাবে ছাপা হয়?

২০১১-তে রাজ্যে বামেরা গিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। অভিযোগ, সেই পট পরিবর্তনের পরেই গণশক্তিতে রাজ্য সরকারের সমস্ত বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়ে যায়। গত ১৫ বছর আর সরকারি বিজ্ঞাপন (Advertisement) জোটেনি সিপিআইএমের দৈনিক মুখপত্রে। বিজ্ঞাপন না পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে ২০১৪ সালে কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) মামলাও করেছিলে সিপিএম। অন্যান্য সংবাদ মাধ্যম বিজ্ঞাপন পেলে গণশক্তি কেন পাবে না- আদালতে সেই প্রশ্ন তোলা হয়। এর প্রেক্ষিতে হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, কোনও রাজনৈতিক দলের মুখপত্র যদি আইন মেনে কাজ করে, সেটিকে সংবাদপত্র হিসেবেই দেখা উচিত। আর সব সংবাদপত্রের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিও সমান হওয়া উচিত। কিন্তু তার পরেও তৃণমূল সরকারের বিজ্ঞাপন পায়নি সিপিআইএমের দৈনিক মুখপত্র।

তবে, ২০২৩-এ পিপিপি মডেলে তৈরি হওয়া হাওড়ার সাঁতরাগাছিতে স্টেট-অব-দ্য-আর্ট জেআইএস স্কুল অব মেডিক্যাল সায়েন্স, রিসার্চ সেন্টার ও হাসপাতালের উদ্বোধনের বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয় ‘গণশক্তি’-র (Ganashakti) প্রথমপাতায়। সেখানে উদ্বোধক হিসেবে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ও ছবি ছাপা হয়। সেই পাতার ছবি নিজের স্যোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে পোস্ট করে কটাক্ষ করেন তৎকালীন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। প্রশ্ন তোলেন, তৃণমূলের সঙ্গে বামেদের জোটের পথ প্রশস্ত হচ্ছে? সেই কারণেই এই ছবি ও বিজ্ঞাপন! তবে, সেটি বেসরকারি বিজ্ঞাপন বলে ব্যাখ্যা দেন সিপিএম নেতৃত্ব।

তবে, মোদি সরকারের বিজ্ঞাপন ছাপা হয়েছে গণশক্তিতে। যা নিয়ে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। গত বছর সিপিএমের মুখপত্রর প্রথম পাতায় কেন্দ্রীয় সরকারের (Central Government) ১১ বছরের সাফল্যের খতিয়ান-সহ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন ছাপা হয়। যা নিয়ে আলিমুদ্দিনের অন্দরেই বিতর্ক দেখা দেয়। একাংশ প্রশ্ন তোলে, ”যে বিজেপি সরকারের আমরা সমালোচনা করছি, অথচ দলীয় মুখপত্রের প্রথম পাতায় মোদির ছবি দেওয়া কেন্দ্রীয় সরকারের সাফল্যের প্রচার করা বিজ্ঞাপন কী করে আমরা ছাপছি?” বিষয়টি নিয়ে খোঁচা দেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষও। সোশাল মিডিয়ায় ‘গণশক্তি’র প্রথম পাতায় মোদি সরকারের বিজ্ঞাপনের ছবি দিয়ে ক্যাপশনে লেখেন ‘সিপিএমের নতুন আইডিয়া’।
আরও খবর: শপথেই সোশ্যালে পালাবদল: সবুজ থেকে গেরুয়ায় ‘পথে’ বদল রাজ্য পুলিশের

এবার রাজ্যে পালাবদলের পরে ফের বিজেপি সরকারের বিজ্ঞাপন ‘গণশক্তি’র প্রথম পাতায়। তবে, সেটা কেন্দ্রের নয়, রাজ্যের। এখন প্রশ্ন, বাংলায় যে বিজেপিকে আটকাতে বিধানসভা ভোটের আগে প্রচার করেছে সিপিএম, বিজেপিকে দেশের প্রধান শত্রু বলছে- সেই বিজেপি সরকারের পাতা জোড়া বিজ্ঞাপন কীভাবে ছাপা হয়? এই বিষয় নিয়ে এখনও কোনও মন্তব্য না করলেও, রাজ্য সরকারি বিজ্ঞাপন পাওয়ার বিষয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “আজকের বিজ্ঞাপন কোনও ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়। এটাই হওয়া উচিত। দেখতে হবে ভবিষ্যতে কী হয়”। তবে, রাজ্য সরকারের বিজ্ঞাপন আসার স্বস্তিতে কর্মীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মীর মতে, এতে আর্থিক সুরাহাই হবে।

–

–

–
–
–

