বাংলার নির্বাচনের আগে আকস্মিকভাবে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল তাঁকে। কেন্দ্রের সরকারের বেঁধে দেওয়া নির্বাচন কমিশনের তরফে সব দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করে বাংলায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করে সফল সুব্রত গুপ্ত (Subrata Gupta)। সেই সঙ্গে বাংলার প্রশাসন পরিচালনার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সুব্রতকেই প্রথমবার রাজ্যে গঠিত বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টার (Chief Advisor) পদে নিয়োগ করার ঘোষণা করা হল। কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে এই নিয়োগের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

নির্বাচনের প্রতিটি পর্বে শান্তভাবে সব দায়িত্ব সামলেছেন। হিংসার কোনও ঘটনাতেই উদ্বিগ্ন না হয়ে এমন দিক নির্দেশ করেছেন, যা শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও রক্তপাতহীন নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করেছে। স্পেশাল রোল অবজার্ভার (Special Role Observer) হয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের পিছন থেকে তিনিই যে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাতে কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই। তাঁর অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছিল বলে প্রশাসনিক মহলের অভিমত। সেই অভিজ্ঞতার উপর ভরসা রেখেই নতুন সরকার তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিল বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন সরকার প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের দিকে জোর দিচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতেই অভিজ্ঞ আমলাদের নিয়ে একটি শক্তিশালী উপদেষ্টা বলয় তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। সুব্রত গুপ্তর নিয়োগ সেই প্রক্রিয়ারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগেই পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের জমানার মুখ্যমন্ত্রীর দুই মুখ্য উপদেষ্টা পদত্যাগ করেছেন। ফলে সেই পদে সুব্রত গুপ্তর নিয়োগ আরও সহজ হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এই ধরনের অভিজ্ঞ আমলাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর (Chief Minister of West Bengal) উপদেষ্টা (Chief Advisor) হিসেবে গুপ্তর (Subrata Gupta) নিয়োগকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই দেখছে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহল।

আরও পড়ুন : শপথেই সোশ্যালে পালাবদল: সবুজ থেকে গেরুয়ায় ‘পথে’ বদল রাজ্য পুলিশের

সেই সঙ্গে এদিন আরও একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার অতিরিক্ত জেলাশাসক শান্তনু বালাকে মুখ্যমন্ত্রীর প্রাইভেট সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ করেছে রাজ্য সরকার। দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার ফলতায় এখনও নির্বাচন হয়নি। সেক্ষেত্রে তার আগেই জেলার অন্যতম শীর্ষ পদে থাকা আধিকারিককে তুলে এনে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব নিয়োগ করা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

–

–

–
–
–

