সদ্য প্রয়াত হয়েছেন মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি টুটু বোস(Tutu Bose)। সাড়ে তিন দশকের বেশি সময় ধরে মোহনবাগান ক্লাবকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যান টুটু। বর্তমানে সভাপতি টুটুর উত্তরসূরি হয়েছেন দেবাশিস দত্ত। দীর্ঘদিন ধরে টুটুর অন্যতম ঘনিষ্ঠ ছিলেন দেবাশিস। দলবদলের ক্ষেত্রেও টুটুর অন্যতম সহযোদ্ধা ছিলেন দেবাশিস। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজের অফিসে বসে বিশ্ববাংলা সংবাদ একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রিয় টুটুদাকে(Tutu Bose) নিয়ে স্মৃতি স্মরণিতে হাঁটলেন দেবাশিস(Debasish Dutta)।
টুটু বোস মানেই দলবদলের এক রাজা। ইস্টবেঙ্গলের ডেরা থেকে একের পর এক ফুটবলার তুলে এনেছিলেন। কৃশাণু , বিকাশ থেকে মনোরঞ্জনকে মোহনবাগানকে সই করিয়েছিলেন।

দেবাশিস সেই প্রসঙ্গে বলেন, মোহনবাগান ক্লাবের দল বদলের রাজা যদি বলা হয় তবু অবশ্যই এক নম্বরে টুটু দা, তবে ময়দান বললে টুটু দার সঙ্গে পল্টু বাবুর নাম থাকবে। টুটু বাবুর সবথেকে বড় সুবিধা ছিল তাঁর কাছে টাকা ছিল। ফলে অন্য ক্লাবের থেকে বেশি টাকায় তিনি ফুটবলারদের দলে দিতে পারতেন। তবে শুধু টাকা থাকলেই হবে না একই সঙ্গে মানুষকে খুব ভালো বুঝতে পারতেন। যে কোনো ফুটবলারের দুর্বল জায়গাটা ধরে ফেলতে পারতেন। মনোরঞ্জনের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। সেই সময় মনোরঞ্জনে সঙ্গে ইস্ট বেঙ্গলের একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল সেটাকেই কাজে লাগান। সবাই শুনলে অবাক হবেন মাত্র এক টাকাতে মনোরঞ্জনকে সই করান টুটু দা।

কীভাবে মোহনবাগান ক্লাবকে বদলে দিয়েছিলেন টুটু অঞ্জন জুটি? দেবাশিসের উত্তর, টুটু এবং অঞ্জন দা মোহনবাগান ক্লাবে আধুনিকতার জনক। ক্লাবে বিদেশি সই করানো থেকে স্পনসর আনা সেই সময় একের এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেয়। অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছিল। যারা গতানুগতিকাকে ভাঙেন তারাই তো যুগের প্রতীক হন। তারা যেমন আধুনিক ছিলেন তেমনই ক্ষমতা ছাড়তেও জানতেন। টুটু দার হাত ধরে ক্লাবে আসা, তারপর অঞ্জন দার সঙ্গে পরিচয়। ধীরে ধীরে আমাদের তুলে আনেন।

আগামী দিনে নেতাজি ইন্ডোরে ক্লাব বড় করে টুটু বোসের স্মরণ সভা করবেন। ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য তারিখ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে।

–

–

–
–
–
