শুক্রবার বিধানসভায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্পিকার হিসেবে জয়লাভ করলেন বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্র বোস। এদিন প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের (Tapas Roy) তদারকিতে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। রীতি মেনে স্পিকারকে তাঁর আসনে পৌঁছে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ও বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandeb Chattopadhyay)। সরকার ও বিরোধীপক্ষ উভয়েই নতুন স্পিকারকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে।
এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী স্পিকার হিসেবে বিজেপি বিধায়কের নাম প্রস্তাব করেন। সমর্থন করেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। ধ্বনি ভোটে জয়লাভ করেন রথীন্দ্র। ভোটপর্বে অবশ্য তৃণমূল বিধায়করা উপস্থিত ছিলেন না। তবে তাঁরা পরবর্তীতে এই নির্বাচনের বিরোধিতাও করেননি। প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (Biman Banerjee) থেকে শুরু করে বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) রথীন্দ্রকে শুভেচ্ছা জানান। সভার নিয়ম মেনে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রথম বক্তব্য রাখার কথা বলেন স্পিকার। শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিরোধীদের গঠনমূলক আলোচনা সবসময় স্বাগত জানানো হবে। আগামী পাঁচ বছর বিধানসভায় বিরোধীরা বক্তব্য পেশের পর্যাপ্ত সুযোগ পাবেন। তবে প্রথম থেকেই বিধানসভার কার্যপ্রণালী বানচাল করার প্রয়াস থেকে বিরোধী বিধায়কেরা বিরত থাকবেন বলে আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। নিয়েও জানান বাজেট বা নতুন বিল আনার ক্ষেত্রে অধিবেশনের লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।

এদিন বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও। ভোট পরবর্তী হিংসায় ঘরছাড়াদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন কোথাও ভরসা নেই, অথচ ভয় চারগুণ বেড়ে গেছে। এরপর মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা বলেন, কেউ ঘরছাড়া বলে তাঁর কাছে কোনও খবর নেই। তবে যদি সেরকম কোনও তালিকা থাকে তাহলে বিরোধী দলনেতার কাছে তাহলে তিনি যেন সেটা ডিজিপিকে জমা দেন। পুলিশ এবং বিজেপি নেতারা তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসবেন। তবে তাঁদের কারোর যদি একুশ সালের নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় নাম থাকে, তাহলে সেক্ষেত্রে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে। স্পিকার রথীন্দ্রকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিধানসভায় এদিন ভাষণ দেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি, সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রানাও।

–

–

–

–

–
–
–
