রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর প্রশাসনিক কাজকর্মে গতি আনতে এবং জেলাস্তরে সরাসরি নজরদারি চালাতে তৎপর নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর এই প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। আগামী বুধবার, ২০ তারিখ উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক করবেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার-সহ উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক মহলে তুমুল তৎপরতা শুরু হয়েছে। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এই বৈঠকে উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়ন, সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিকাঠামো, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। বিশেষ করে পাহাড় এবং ডুয়ার্স এলাকার থমকে থাকা উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির বর্তমান অগ্রগতি কী, তা নিজে খতিয়ে দেখতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পাশাপাশি সামনেই বর্ষা, তাই উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার আগাম প্রস্তুতি এবং চা-বাগান এলাকার শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের সমস্যা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই নবান্ন জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় বাড়াতে চাইছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে বৈঠক করলে প্রশাসনের অন্দরে জবাবদিহি যেমন বাড়ে, তেমনই কাজের গতিও বৃদ্ধি পায়। সেই কারণেই এই উত্তরবঙ্গ সফরকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

উত্তরবঙ্গের বৈঠক শেষ করেই পরদিন, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ২১ তারিখ দুর্গাপুরে পৌঁছবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে রাঢ়বঙ্গ অঞ্চলের জেলাগুলিকে নিয়ে একটি বিশেষ প্রশাসনিক বৈঠক করবেন তিনি। পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম এবং ঝাড়গ্রাম জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকরা এই বৈঠকে যোগ দেবেন। শিল্পাঞ্চল ও খনিজভিত্তিক এলাকার উন্নয়ন, নতুন শিল্প বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান তৈরি, পানীয় জলের সমস্যা সমাধান এবং গ্রামীণ পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিষয়গুলি এই বৈঠকে বাড়তি গুরুত্ব পাবে বলে জানা গিয়েছে।

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী প্রতিটি অঞ্চলের ভৌগোলিক ও সামাজিক গুরুত্ব অনুযায়ী আলাদা আলাদা উন্নয়নের রূপরেখা বা ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করতে চাইছেন। সেই কারণেই অঞ্চলভিত্তিক এই প্রশাসনিক বৈঠকের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসনগুলির কাছ থেকে চলতি প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন, খরচের খতিয়ান এবং সরকারি পরিষেবা সাধারণ মানুষের কাছে ঠিকমতো পৌঁছচ্ছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের এই পদক্ষেপকে প্রশাসনের অন্দরে স্বচ্ছতা ও গতি আনার অন্যতম বড় প্রয়াস হিসেবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।

আরও পড়ুন – ISL: ডার্বিতে আমন্ত্রিত শুভেন্দু, অতীত ভুলে ‘ফাইনালে’ ফোকাস লোবেরার

_

_
_
_
_
