বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বাংলার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া পড়বে। ক্ষমতায় আসার পরে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে সেই কাজ শুরু করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার সেই কাজ হাতে কলমে বাস্তবায়িত করা শুরু করলেন তিনি। বিএসএফ-কে (BSF) অরক্ষিত জমির ২৭ কিমি হস্তান্তরিত করা হল কাঁটাতার (fencing) দেওয়ার জন্য।
প্রথম ধাপে যে ২৭ কিমি জমি হস্তান্তরিত হল, তা নবান্নে বিএসএফ-এর ডিজি (DG, BSF) ও এডিজি-র (ADG, BSF) উপস্থিতিতে যেমন হল, তেমনই সাক্ষী থাকলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রায় ৬০০ কিমি বাংলাদেশ সীমান্তের জমি কাঁটাতার না দেওয়ায় অরক্ষিত। রাজ্যের তরফে ৩১.৯ একর সরকারি খাস জমি তুলে দেওয়া হল বিএসএফ-এর হাতে। সেই সঙ্গে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ৪৩ একর জমিও তুলে দেওয়া হল বুধবার। ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমির ক্ষেত্রে বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিয়েই জমি নেওয়ার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী অধিকারি।

প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর থেকেই সীমান্তবর্তী জেলাগুলির প্রশাসন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বিএসএফ-এর সমন্বয়ের মধ্যে দিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। সমস্যাজনক এলাকায় গিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়াও। এরপরই দ্রুত হয় জমি হস্তান্তরের কাজ। মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, ২৭ কিমি কাঁটাতার (fencing) দেওয়ার জমি হস্তান্তর করা হল। সেই সঙ্গে বর্ডার আউটপোস্ট ও বিএসএফ-এর (BSF) পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জমি হস্তান্তরিত করা হল।

বিজেপি শাসিত অন্যান্য রাজ্যে যেভাবে বিএসএফ-কে সীমান্ত রক্ষায় জমি হস্তান্তরের কাজ হয় তার ব্যতিক্রম যে হবে না এবার বাংলায়, তা স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী। তিনি জানান, বাকি চার রাজ্যে সরকার বিএসএফ-এর চাহিদা মতো পূর্ণাঙ্গ জমি হস্তান্তরিত করেছে। বাংলায় ১৬০০ কিমি কাঁটাতার রয়েছে। আনুমানিক ৬০০ কিমি কাঁটাতার সম্পূর্ণ করতে পারিনি। এর মধ্যে ৫৫৫ কিমি এমন যেখানে রাজ্য সরকার চাইলে বিএসএফ-কে জমি দিতে পারত। আমরা বর্তমান সরকার আসার পরে দ্রুততার সঙ্গে এই জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া সুরক্ষিত করতে চলেছি। আগামী দিনে যেখানে যেখানে জমি দেওয়া সম্ভব আমরা অতি দ্রুততার সঙ্গে তুলে ধরব।

আরও পড়ুন : সমস্যা রয়েছে: সীমান্তের জমি অধিগ্রহণে গিয়ে সমাধানের আশ্বাস মন্ত্রী অশোকের

এই জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন বিএসএফ-এর ডিজি প্রবীণ কুমার। তিনি জানান, বিএসএফ-এর পরিকাঠামো, কাঁটাতার দেওয়া ও সমন্বয়ের দাবি আমরা অনেক দিন চেয়েছিলাম। আজ যে জমি হস্তান্তর হচ্ছে তাতে আমূল পরিবর্তন হল। একটি সমন্বয় সাধন হল। এবার কাঁটাতারের বেড়া হবে। সুন্দরবনের মতো এলাকায় যেখানে বিরাট জলাশয় আমরা ভাল করে দেখতে পারছিলাম না। সেটা এবার ভালো করে দেখা সম্ভব হবে। ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্ত আরও সুরক্ষিত হবে।

–

–
–
–
