Thursday, May 21, 2026

“গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ”! রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ অভিষেকের

Date:

Share post:

দিন কয়েক আগেই বিহার সরকারের নতুন সোশ্যাল মিডিয়া নীতি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সেখানে সরকারি কর্মীদের অনলাইনে সরকারের সমালোচনা করলে বিভাগীয় তদন্ত, ইনক্রিমেন্ট বন্ধ এমনকী চাকরি যাওয়ার মতো শাস্তির কথাও উঠে এসেছিল। সেই বিতর্কের রেশ কাটার আগেই নতুন করে চর্চায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি সার্কুলার। সেই নির্দেশিকা নিয়েই এবার সোশ্যাল হ্যান্ডেলে সরব হলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। জানান, “সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা! এই সার্কুলারে এই বাক্যটি একটি সতর্কবার্তার মতো প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। সুশাসন রক্ষার জন্য নয়, বরং সমগ্র বাংলা জুড়ে সরকারি কর্মচারীদের উপর নীরবতা চাপিয়ে দেওয়া হল।”

১৯ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যসচিবের দফতর থেকে জারি হওয়া সার্কুলারে সরকারি কর্মীদের মিডিয়া, প্রেস এবং জনসমক্ষে বক্তব্য সংক্রান্ত একাধিক কড়া নির্দেশিকা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সার্কুলারটিতে মূলত All India Services Conduct Rules, 1968 এবং West Bengal Government Servants’ Conduct Rules, 1959-এর বিভিন্ন ধারার উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, সরকারি কর্মচারীদের আচরণ ও জনসমক্ষে বক্তব্যের উপর নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং সেগুলি কঠোরভাবে মানতে হবে। সরকারি অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মী কোনও স্পন্সরড মিডিয়া প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকী সরকারের বাইরে কোনো এজেন্সি দ্বারা তৈরি হলেও যদি সেটি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হয়, তাহলেও আগে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। এছাড়া প্রেস বা মিডিয়ার কাছে কোনো সরকারি তথ্য বা নথি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে পৌঁছে দেওয়ার উপরও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে।

এই নিয়ে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (X-Handle) অভিষেক (Abhishek Banerjee) লেখেন,
“সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা।
এই সার্কুলারে এই বাক্যটি একটি সতর্কবার্তার মতো প্রতিধ্বনিত হচ্ছে- সুশাসন রক্ষার জন্য নয়, বরং সমগ্র বাংলা জুড়ে সরকারি কর্মচারীদের মুখবন্ধ করার জন্য।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা যাবে না।
প্রবন্ধ লেখা যাবে না।
গণমাধ্যমের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা যাবে না।
কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের সমালোচনা করা যাবে না।
দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে এমন কোনও মতপ্রকাশ করা যাবে না।

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের রিমোট-নিয়ন্ত্রিত শাসনে, নীরবতা এখন একটি প্রশাসনিক আবশ্যকতা।
এই মর্মান্তিক সার্কুলারটি শৃঙ্খলার জন্য নয়, এটি দিল্লিতে বসে থাকা প্রভুদের প্রতি সম্পূর্ণ আনুগত্য নিশ্চিত করার জন্য বাকস্বাধীনতা খর্ব করা এবং পদ্ধতিগতভাবে মৌলিক অধিকারের গলা টিপে ধরার উদ্দেশ্যে জারি করা হয়েছে।
সংক্ষেপে: যা বলা হবে তাই ভাবুন। অনুমতি পেলেই কেবল কথা বলুন।
যখন কোনও সরকার সমালোচনা সহ্য করতে পারে না, তখন তারা ভিন্নমত দমন করতে শুরু করে। এটা শক্তি নয় – এটা গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ!“

বিহারের মতো এখানে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট শাস্তিমূলক কাঠামো — যেমন departmental inquiry, increment বন্ধ বা dismissal— এই সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়নি। পুরনো Conduct Rules-গুলিকে “strict compliance”-এর মাধ্যমে আবারও কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও Conduct Rules ভঙ্গ করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আগের নিয়মগুলিতেই আগে থেকে রয়েছে।
আরও খবরমারধর-হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার ডানকুনির তৃণমূল কাউন্সিলর

স্বাভাবিকভাবেই এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, নাগরিরদের নিজস্ব মত প্রকাশের অধিকার কেন খর্ব করা হচ্ছে! আপাতত নতুন এই নির্দেশিকা ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক মহল এবং কর্মচারী সংগঠনগুলির মধ্যে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

Related articles

ক্রীড়ামন্ত্রীর ঘোষণার পরই শুরু অ্যাকশন, রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে ঝুলল তালা!

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরই ক্রীড়াক্ষেত্রে পরিকাঠামো ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে তালা ঝুলল রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে(Rabindra...

আর জি কর-কাণ্ডে ফের তদন্ত করবে CBI, গঠন করতে হবে SIT: নির্দেশ হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের

আর জি করে তরুণী চিকিৎসক-পড়ুয়ার ধর্ষণ-খুনকাণ্ডে ফের তদন্ত করবে CBI। বৃহস্পতিবার এই নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন...

হলফনামায় সম্পত্তির পরিমাণে অসঙ্গতি, গ্রেফতারির আশঙ্কায় আগেভাগে হাইকোর্টে অদিতি- দেবরাজ 

রাজ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন হলফনামায় নিজের সম্পত্তি সংক্রান্ত যে তথ্য জমা দিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়িকা অদিতি মুন্সী...

বকেয়া DA জট কাটাতে ৩০ মে নবান্নে বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর

ক্ষমতায় আসতে বকেয়া ডিএ-কে (DA) ইস্যু করেছিল বিজেপি (BJP)। তারপর বিভিন্ন বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করলেও, ডিএ নিয়ে মুখ...