জ্বালানি গ্যাসের পরে এবার গোটা দেশ যে ভোজ্য তেলের সংকটের মধ্যেও পড়েছে তা লুকানোর আপ্রাণ চেষ্টা কেন্দ্রের মোদি সরকারের। আর তার কোপ প্রথমেই পড়ছে পড়ুয়াদের মিড-ডে মিলে (mid-day meal)। একদিকে দেশে জ্বালানি গ্যাসের সংকট (fuel crisis)। অন্যদিকে ভোজ্য তেলের সংকট মোকাবিলায় রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সরকার পোষিত ও স্থানীয় প্রশাসনিক স্কুলগুলিতে রান্নার তেল (cooking oil) ও গ্যাসের ব্যবহার কমানো নির্দেশিকা জারি করল রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর (School Education Department)।
মিড-ডে মিল প্রকল্পকে ঘটা করে নাম পরিবর্তন করে ‘পিএম পোষণ’ (PM-POSHAN) করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই প্রকল্পে সমস্ত সরকারি, সরকার পোষিত ও স্থানীয় প্রশাসনিক স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল দেওয়া হয়। প্রাথমিকের প্রথম শ্রেণি থেকে মধ্যম স্কুলের অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়ারা মিড-ডে মিলের সুবিধা পেয়ে থাকে। এর উদ্দেশ্য ছিল একদিকে প্রাথমিকের শিশুদের নির্দিষ্ট পরিমাণ পুষ্টি দেওয়া। অন্যদিকে, স্কুলে খাবার দেওয়ার মধ্যে দিয়ে পড়ুয়াদের স্কুলমুখী করা।

দীর্ঘ দিন ধরেই বাংলায় মিড-ডে মিলের বরাদ্দ নিয়ে কেন্দ্রের বঞ্চনার অভিযোগ ছিল। নির্বাচনের আগে সেই বরাদ্দ এক লাফে বেশ খানিকটা বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন শেষ হতেই পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে এবার সেই মিড-ডে মিলে (mid-day meal) গ্যাস ও তেলের (cooking oil) খরচের পরিমাণ কমানোর নির্দেশ।

প্রধানমন্ত্রী নিজের ভাষণে যেদিন জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমানো বার্তা দিয়েছিলেন গোটা দেশের মানুষকে সেদিনই ভোজ্য তেল ব্যবহারেরও নিদান দিয়েছিলেন। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশে কোন কোন সংকট তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে কোনও বার্তা দেওয়া হচ্ছে না কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের তরফে। অথচ সেই সংকটের প্রথম কোপ এসে পড়ল শিশুদের মিড-ডে মিলে।

আরও পড়ুন : সরকারি বাসে বিনামূল্যে সফরে জরুরি ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড! আবেদন করবেন কীভাবে

সোমবার রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয় রাজ্যের সব জেলাশাসক থেকে প্রাথমিক স্কুল কাউন্সিলের চেয়ারম্যানদের উদ্দেশ্যে। সেখানে বলা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবের জারি করা নির্দেশিকার প্রেক্ষিতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে ‘পিএম পোষণে’র অন্তর্গত সব স্কুলে রান্নার তেল ও গ্যাসের ব্যবহার যেন কমানো হয়। নির্দেশিকা জারির সঙ্গে সঙ্গেই সেই নির্দেশিকা পালনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

–

–
–
–
