প্রশ্নফাঁস, অনিয়ম, উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা আর বিশ্বাসঘাতকতা। এই পঞ্চবাণে দেশের যুবসমাজকে বিদ্ধ করে চলেছে বিজেপি (BJP)। একের পর এক দুর্নীতি। নিট (NEET), CBSE-র পরে এবার এসএসসি জিডি। ফের অনিয়মের অভিযোগ। অনলাইন পরীক্ষায় লাগাতার হ্যাকিংয়ের চেষ্টা চলল। এ বিষয়য়ে এক্স হ্যান্ডেলে সরব হলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।

দীর্ঘ এই পোস্টে অভিষেক (Abhishek Banerjee) লেখেন, বছরের পর বছর কঠিন পরিশ্রম করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুবসমাজ। কিন্তু প্রতিনিয়ত তাঁদের হতাশার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তিনি লেখেন, “৪৬ লক্ষ পরীক্ষার্থী অনেক স্বপ্ন নিয়ে এসেছিল। কিন্তু পরীক্ষা ব্যবস্থায় মানুষের বিশ্বাসটাই উঠে গিয়েছে। এটা আসলে ইচ্ছাকৃতভাবে মেধাকে ধ্বংস করার চেষ্টা। একটা গোটা প্রজন্ম বিশ্বাস করছে তারা যতই পড়াশোনা করুক না কেন সিস্টেমের গাফিলতিতে তারা ব্যর্থ হবেই। দেশ গঠন নয়, পরীক্ষার দুর্নীতি নিয়ে খবর হচ্ছে বিজেপির ভারতে। যে সরকার পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পারে না তারা দেশের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে না।“

এর আগে প্রশ্ন ফাঁসের কারণে বাতিল হয়েছে ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা অর্থাৎ নিট। চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সিবিএসই-র মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে। এরপর নিয়োগ বিতর্ক এসএসসি জিডি-তে। অভিষেকের সাফ কথা, দেশের যুবসমাজকে ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে। তারা এগুলো মনে রাখবে। দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় যে ঘুণ ধরেছে, সেটা এই পরীক্ষা দুর্নীতির মাধ্যমে আবার প্রকট হয়ে গেল। তাঁর আরও সংযোজন, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে শুরু করে সিবিএসসি পরীক্ষায় অনিয়ম এবং এসএসসি জিডি নিয়োগ বিতর্ক ভারতের যুব সমাজকে উদ্বেগ অনিশ্চয়তা আর বিশ্বাসঘাতকতার একচক্রে আবদ্ধ করল। কোটি কোটি ছাত্রছাত্রীর বছরের পর বছর ধরে প্রস্তুতি সব মাঠে মারা গেল। ঘুম, সম্পদ মানসিক শান্তি, পারিবারিক প্রত্যাশা বিসর্জন দিয়ে যে আশায় কঠোর পরিশ্রম করে ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য তারা পরীক্ষায় বসেছিল, এক বেনিয়মে সব ধূলিসাৎ। এই বিজেপির আমলে বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, অব্যবস্থাপনা, আরও কত কী অনিয়ম অত্যাচার সহ্য করতে হবে যুবসমাজকে! অভিষেকের স্পষ্ট কথা, ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা বন্ধ করুন। প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতাকে স্বাভাবিক বলে চিৎকার করা বন্ধ করুন। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর আস্থা ফেরানোর বন্দোবস্ত করুন। মনে রাখবেন, যুবসমাজ সব দেখছে, তারা ছেড়ে কথা বলবে না।

–

–

–

–

–
–
