ফের বিধানসভায় (Assembly) বিরোধী দলনেতা-সহ উপ-বিরোধী দলনেতা ও স্পিকারদের নামের প্রস্তাব করা চিঠি বিধানসভায় দিল তৃণমূল (TMC)। মঙ্গলবার, এই চিঠি জমা নিয়ে বিধানসভায় নজিরবিহীন সংঘাত। “বিরোধীদলের কোনও চিঠি গ্রহণ করা যাবে না“-স্পিকারের তরফ থেকে সচিবালয়ে এমন নির্দেশ পাঠানো হয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) ও অসীমা পাত্র (Asima Patra)। এদিন বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর করা চিঠি জমা দিতে গিয়ে তীব্র প্রত্যাখানের মুখে পড়েন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত প্রতিবাদে সচিবের টেবিলের উপর চিঠি রেখে, গোটা ঘটনার ভিডিও রেকর্ডিং করে বিধানসভা ছাড়েন দুই বিধায়ক। একই সঙ্গে স্পিকারকে ইমেইল করে দেন চিঠি।

বিধানসভা থেকে বেরিয়ে এসে কুণাল (Kunal Ghosh) অভিযোগ করেন, “গতকাল আমরা একটি চিঠি জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু আজ সচিব জানান, স্পিকার নির্দেশ দিয়েছেন বিরোধীদের কোনও চিঠি আর রিসিভ করা যাবে না। স্পিকার নিজে না দেখলে বা অনুমতি না দিলে কোনও চিঠি (Letter) নেওয়া হবে না।” কুণাল প্রশ্ন তোলেন, “উনি না দেখলে বা অনুমতি না দিলে চিঠি রিসিভ করা যাবে না! এবার উনি নেই তাহলে কি আমরা চিঠি জমা দিতে পারব না? যেটা সব অফিসে হয়, তাঁরা তো কেউ চিঠি পড়ে রিসিভ করেন না। একটা নিয়মের ব্যাপার আছে, চিঠি রিসিভ করে লিখে দেওয়া হয় রিসিভড বাট কনটেন্ট নট ভেরিফাইড।” এরপর বিধানসভার প্রিন্সিপল সেক্রেটারিকে ফোন করা হলেও তিনিও চিঠি নিতে অস্বীকার করেন। বাধ্য হয়ে বিধায়করা চিঠিটি সচিবের টেবিলে রেখে তার ভিডিও করে আসেন।

বিস্ফোরক অভিযোগ করে কুণাল বলেন, “গতকাল আমাদের চিঠি রিসিভ করার অপরাধে আজ ওই সচিবের অধিকার খর্ব করা হয়েছে। তাঁকে অন্য দফতরে বদলি করে দেওয়া হয়েছে।”

একদিন আগে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandev Chatterjee) ও কুণাল ঘোষ স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি দেখা করেননি তাহলে তিনি দেখাও করবেন না আবার চিঠিও রিসিভ করতে দেবেন না? স্পিকারের এই আচরণের তীব্র সমালোচনা করে প্রাক্তন স্পিকার হাসিম আবদুল হালিম ও বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলের সংসদীয় রীতির উদাহরণ টানেন কুণাল। স্পিকারের সচিবালয়কে ঘিরে তৈরি হওয়া এই নয়া বিতর্ক রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

–

–

–

–
–
–
