Sunday, June 7, 2026

সরকারি হাসপাতালে ভুয়ো ডাক্তার! আবার সেই ডবল ইঞ্জিন মধ্যপ্রদেশের ছবি

Date:

Share post:

বিজেপি জমানায় শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বড় সড় প্রশ্নের মুখে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নিট পরীক্ষায় (NEET Exam) বসা পরীক্ষার্থীরা বাধ্য হয়েছেন আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বৃহৎ আন্দোলনও করেছে সিজেপি (CJP)। তারই মধ্যে আবার বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে (Madhya Pradesh) আরও এক দুর্নীতির জলজ্যান্ত প্রমাণ সামনে এল। ডবল ইঞ্জিন মধ্যপ্রদেশে সরকারি হাসপাতালে বসে ভুয়ো চিকিৎসক। ভুয়ো এমবিবিএস (MBBS) ডিগ্রি এবং জাল মেডিক্যাল কাউন্সিল রেজিস্ট্রেশন নম্বর (Medical Council Registration Number) ব্যবহার করে বছরের পর বছর সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করে গিয়েছেন এক জন নয়, একাধিক ব্যক্তি!

প্রথমে মধ্যপ্রদেশের দামোহ জেলায় (Damoh) এই চক্রের হদিশ মেলে। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের (National Health Mission) অধীনে পরিচালিত সঞ্জীবনী ক্লিনিকে (Sanjeevani Clinic) কর্মরত তিন চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের কাছে বিএডিএস (BADS) ডিগ্রি এবং অন্যজনের কাছে বিএইচএমএস (BHMS) ডিগ্রি ছিল। অথচ জাল নথির সাহায্যে নিজেদের এমবিবিএস চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে সরকারি চাকরি পান তাঁরা। অভিযোগ, আসল চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। চমকপ্রদভাবে একজন চিকিৎসকের জাল নথি তৈরি করতে খরচ করতে হয়েছে মাত্র ১০ লক্ষ টাকা! আরও পড়ুন:প্রথম কর্মসূচির সাফল্য ঘোষণা: CJP-কে সমর্থন অখিলেশ-কেজরি-শিবসেনার 

অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেছেন। প্রতিদিন বহু রোগী দেখেছেন, প্রেসক্রিপশনও দিয়েছেন। অথচ মেডিক্যাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর একবার অনলাইনে যাচাই করলেই এই জালিয়াতি ধরা পড়তে পারত। তা সত্ত্বেও কীভাবে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হল এবং এতদিন ধরে কাজ চালিয়ে যেতে দেওয়া হল, তা নিয়ে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন। স্বাস্থ্য দফতরের তদারকি ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাও এখন প্রশ্নের মুখে।

এই জাল চিকিৎসকের চক্র শুধু একটি জেলায় থেমে থাকেনি। দামোহে জেলার পরে চক্র ছড়িয়েছে ভোপালেও। ১০ লক্ষ টাকায় ডাক্তারি ডিগ্রি কেনার ধুম সেখানেও। ভোপালের আরও ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তদন্তে জানা গিয়েছে, তাঁরা যে রেজিস্ট্রেশন নম্বর জমা দিয়েছিলেন, সেগুলি আসলে অন্য প্রকৃত চিকিৎসকদের নামে নথিভুক্ত। অভিযোগ, আসল নথির কপি সংগ্রহ করে তা বদলে নিজেদের নামে ভুয়ো শংসাপত্র তৈরি করা হয়েছিল। এই জাল নথি দেখিয়েই সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চাকরি পেয়েছিলেন তাঁরা। এর পিছনে কোনও বড় চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে মধ্যপ্রদেশ সরকার। এনএইচএম ও সঞ্জীবনী ক্লিনিকের অধীনে কর্মরত ২ হাজারেরও বেশি চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসকের ডিগ্রি ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, যাচাইয়ের সময় কোনও গরমিল বা জালিয়াতির প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের চাকরি বাতিল করা হবে। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

Related articles

CJP-র পাশে দুই প্রান্তের দুই সেলিব্রেটি: লড়াইকে কুর্নিশ প্রকাশ-অতুলের

প্রথম কর্মসূচিতেই দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্নীতি, বেকারত্ব, কর্মসংস্থান ও মূল্যবৃদ্ধির...

একই ব্রেসলেট, একই সময়ে পোস্ট; বলি অভিনেত্রীর অভিষেকের প্রেমের জল্পনা তুঙ্গে

কখনও একসঙ্গে দেখা যাওয়া, কখনও আবার সামাজিক মাধ্যমে (Social Media) ছড়িয়ে পড়া কিছু ইঙ্গিত। তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে...

‘ডায়মন্ড সিস্টেম’, উৎপল সিনহার কলম 

" পৃথিবীর এইসব গল্প বেঁচে রবে চিরকাল ... " অমল দত্ত বনাম পিকে, কাতানেচিও বনাম ডায়মন্ড, মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল। উত্তেজনায় থরথর। চায়ের...

ক্ষমতায় থাকলে বদমায়েশদের ভিড় বাড়ে: রাজ্যজুড়ে গ্রেফতারিতে সরব দেবাংশু

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতেই তৃণমূলের (TMC) অন্দরে এবার ক্ষোভের আবহ। দুর্নীতি, তোলাবাজি ও বোমা বিস্ফোরণের মতো গুরুতর অভিযোগে...