বাংলার বিজেপি সরকারের কাজের ভূয়সী প্রশংসা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের (Buddhadev Bhattacharya) স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্যের (Mira Bhattacharya)। তাঁর কথায়, “মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন সরকার যেভাবে কাজ করেছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তারা এত দ্রুত তাদের প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়ন করছে, তাতে আমি খুশি।” একইসঙ্গে বুদ্ধ-জায়া বলেন, সিঙ্গুরের (Singur) মানুষ এখন বুঝতে পারছেন তাঁদের ভুল বোঝানো হয়েছিল। সিঙ্গুরে অটোমোবাইল শিল্প (পড়ুন টাটাদের কারখানা) স্থাপন হলে বাংলার অর্থনীতির চিত্রটাই বদলে যেত।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে মীরা বলেন, প্রতিশ্রুতি পূরণের সদিচ্ছার প্রমাণ হিসেবে নারীদের জন্য বিনামূল্যে বাস পরিষেবার মতো জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রাজ্য। তিনি বলেন, “নতুন সরকার নির্বাচনের আগে করা প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়নের জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক দলমত নির্বিশেষে, যিনি রাজ্যের কল্যাণে কাজ করেন, তিনি আমাদের শ্রদ্ধার যোগ্য।”

সিঙ্গুরে টাটাদের গাড়ি কারখানা করতে চেয়েছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। আর তার বিরোধিতায় রাজ্যজুড়ে ঝড় তুলেছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেই সিঙ্গুরের আঁচ গিয়ে পড়েছিল পরবর্তী নির্বাচনে। ২০১১ সালে বুদ্ধদেবের থেকে বাংলার ক্ষমতা চলে যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে। প্রতিশ্রুতি মতো ক্ষমতায় ফিরে সিঙ্গুরের অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফেরতের ব্যবস্থা করে তৃণমূল সরকার। কিন্তু সেখানে না হয়েছে শিল্প, না হচ্ছে প্রয়োজনমতো চাষ- এই অভিযোগ স্থানীয়দের। সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে এই কথাতেই সিলমোহর দেন বুদ্ধ-পত্নী মীরা। তিনি জানান, “সিঙ্গুরের মানুষ এখন তাদের ভুল বুঝতে পারছেন এবং উপলব্ধি করছেন যে সেই সময়ে কীভাবে তাদের বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। যদি একটি অটোমোবাইল কারখানা স্থাপন করা হত, তাহলে বাংলার অর্থনৈতিক চিত্র পাল্টে যেত।” একটি অটোমোবাইল কারখানা হলে তা বিভিন্ন সহায়ক শিল্পকে আকর্ষণ কর তরুণদের কাজের জন্য বাংলার বাইরে পাড়ি জমানোর প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দিত বলে মত মীরার।

মীরা ভট্টাচার্য বলেন, তাঁর প্রয়াত স্বামীর স্বপ্ন ছিল পশ্চিমবঙ্গের সর্বক্ষেত্রে উন্নতি দেখা। তাঁর কথায়, “নতুন সরকার যদি বাংলার পূর্বের মর্যাদা ও গৌরব পুনরুদ্ধার করতে পারে, তবে তা অবশ্যই স্বাগত ও প্রশংসিত হবে।” একই সঙ্গে মীরা বলেন, “তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসন এবং বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের মধ্যে কোনও তুলনা হতে পারে না।”

আরও পড়ুন – ভোট মিটতেই হেঁশেলে কোপ! উজ্জ্বলার ভর্তুকি ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তে ফুঁসছেন মহিলারা

_

_

_
_
_
_
