রাজ্য যুব সভাপতি সায়নী ঘোষ কোথায়? যুব তৃণমূলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বৃহস্পতিবার উচাটন। রাজ্য সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় পালের (Mrityunjay Paul) পোস্ট ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য। আর তার মধ্যেই দুপুরে মাস্ক আর কালো সানগ্লাসে মুখ আড়াল করে কলকাতা বিমানবন্দরে ফিরলেন সায়নী। সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নেও মৃত্যুঞ্জয় দাবি করেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে হবে সায়নীর অবস্থান কী?

বিধানসভায় বিদ্রোহ দেখা দিতেই দলের সব কমিটি ও শাখা সংগঠন ভেঙে দেন তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। অনেক পদে রদবদল হলেও রাজ্য যুব সভাপতির পদে রয়েছেন সায়নী। কিন্তু জনসমক্ষে তাঁকে দেখা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতি দিল্লিতে তৃণমূলের লোকসভার সাংসদরা (Lok Sabha) আলাদা ব্লক তৈরি করেছেন। সেখানে প্রথমদিনের বৈঠকে যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ সায়নী না থকলেও, মঙ্গলবার তাঁর হঠাৎ দিল্লি যাওয়া জল্পনা উস্কে দেয়।

আর এর মধ্যে প্রথমে যুব তৃণমূলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ও পরে স্যোশাল মিডিয়ায় বোমা ফাটান যুব নেতা মৃত্যুঞ্জয় (Mrityunjay Paul)। তৃণমূল যুব সভাপতি সায়নী কোথায় জানতে চেয়ে পোস্ট করেন তিনি। লেখেন,
আমাদের প্রেসিডেন্ট সায়নী ঘোষের বর্তমান অবস্থান কী?
দল এবং প্রেসিডেন্ট আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের বিষয়টি জানাক। দল সমস্ত সংগঠন ভেঙে দিয়ে নতুন করে গঠন করলেও, রাজ্য যুব সভাপতির পদে সায়নী ঘোষকেই বহাল রেখেছে।
এই মেসেজটি আমি শুধু ফেসবুকে পোস্ট করিনি,আমাদের শেষ পূর্ণাঙ্গ যুব কমিটির একজন রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমাদের অফিসিয়াল হোয়াটস্যাপ গ্রুপেও পোস্ট করেছি।
ফেসবুকে পোস্ট করার অন্যতম কারণ হলো, আমাদের অধিকাংশ সাংগঠনিক কমিটির ঘোষণা ফেসবুক থেকেই জানতে পারি।
বিঃ দ্রঃ -মেসেজের উত্তর পেলে আপডেট করে দেব।“

এর কোনও জবাব সরাসরি না দিলেও, এর কিছুক্ষণের মধ্যেই কলকাতা পৌঁছন সায়নী ঘোষ (Sayani Ghosh)। দমদম বিমান বন্দর থেকে কালো চশমা, টুপি মাস্ক, স্কার্ফে নিজেকে যতটা সম্ভব আড়াল করে বেরোন তিনি। প্রায় দৌড়ে গিয়ে ওঠেন গাড়িতে।
মৃত্যুঞ্জয় বলেন, সায়নী কোন পক্ষে আছেন-সেটা স্পষ্ট হোক। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকলে তাঁর নেতৃত্ব মেনে নিতে কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু তিনি যদি নরেন্দ্র মোদিকে নিজের নেতা মনে করেন, তাহলে কেন মানবেন তাঁরা সায়নীকে! এই বিষয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দলকে অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে বলে দাবি করেন যুব নেতা।
আরও খবর: রাজধানীতে ঠিকানা বদল তৃণমূলের! কোন সাংসদের বাড়িতে হচ্ছে অফিস?

এই পরিস্থিতে মৃত্যুঞ্জয়দের দাবিকে কার্যত মান্যতা দিয়েছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি জানান, এই বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট হওয়ার প্রয়োজন আছে। দল কাউকে কাউকে নৈবেদ্যের নাড়ুর মতো উপরে বসিয়ে দেবেন, আর সংগঠনের কর্মীরা খেটে মরবে। সেই নেতা নির্বাচনের সিদ্ধান্তের জন্য দুদিন অন্তর দলকে পস্তাতে হবে- সেটা হতে পারে না। এই বিষয় নিয়ে দলের অন্দরে মুখ খোলায় কোনও সমস্যা নেই বলেই মত কুণালের।

–

–

–
–
