স্পিকারকে দেওয়া চিঠিতে এখনও স্বাক্ষর করেননি সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা (Shatrughan Sinha)। কিন্তু তার আগেই তাঁকে নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। এবার তিনি নিজেই জানিয়ে দিলেন রাজনৈতিক জীবনে তিনি নিজের সিদ্ধান্ত অবিচল থাকছেন। শুধু তাই নয়, দলের খারাপ সময়েও তিনি যে পশ্চিমবঙ্গ ও আসানসোলের মানুষের জন্য আগের মতোই কাজ করে যাবেন সেই কথাও জানিয়ে দিলেন।

শত্রুঘ্ন এদিন স্পষ্ট করে বলেন, “২০১৯ সালে পাটনা নির্বাচনে আমার হেরে যাওয়ার বা আমাকে হারানোর ঘটনার পর যখন আমি এক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন খুব কম মানুষই আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল। যে অল্প কয়েকজন আমাকে সমর্থন ও উৎসাহ দিয়েছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তিনি বিশ্বাস করতেন আমি পারব, তাঁর নির্দেশে আমি আসানসোল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলাম। ঈশ্বরের কৃপায়, এবং মমতাজি ও আসানসোলের জনগণের সমর্থনে আমি জিতে যাই। গত কয়েকদিন ধরে আমাকে নিয়ে অনেক জল্পনা চলছে। কেউ সত্যি কথা বলছেন, আবার কেউ গুজব ছড়াচ্ছেন। দাবি করা হচ্ছে আমি তথাকথিত বিদ্রোহী দলে যোগ দিয়েছি। আমি বরাবরই স্পষ্টভাষী। আমি প্রায়ই বলি, সত্যি কথা বলা যদি বিদ্রোহ হয়, তাহলে আমিও একজন বিদ্রোহী। আমি সবসময় অকপটে কথা বলেছি এবং যা সত্যি তাই বলেছি। কিন্তু আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে, মমতাজি আমার কঠিন সময়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, এবং আজ তাঁর এই কঠিন সময়ে আমি তাঁকে ত্যাগ করতে পারি না। ঈশ্বরের আশীর্বাদে আমি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ‘জোড়া ফুল’ দিয়ে একবার নয়, দুবার নির্বাচিত হয়েছিলাম। তাই, মমতাজি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের পাশে দাঁড়ানো আমার কর্তব্য ও দায়িত্ব। আমার নীতি স্পষ্ট মমতাজি যখন আমার কঠিন সময়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন এই মুহূর্তে তাঁর পাশে দাঁড়ানো আমার কর্তব্য।” আরও পড়ুন: ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার ভারতীয় জাহাজ ‘এমটি জালবীর’

তিনি আরও বলেন, ”অনেকেই আজ চলে গিয়েছেন। তাঁরাও ভালো, তাঁদের বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই। তাঁদের ধন্যবাদ জানাবো যারা আমাকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য বলেছেন। আমার ভালো চান বলেই হয়ত তাঁরা আমাকে বলেছেন। তাঁদের দোষ একেবারেই নেই। কিন্তু আমি মমতাজির পাশে আছি।”

–

–

–

–

–
–
–
