১০০ দিনের বেশি সংঘর্ষের পর অবশেষে আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধের অবসান! খুলে যাচ্ছে হরমুজ প্রণালী। ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে অনুষ্ঠিত এক নৈশভোজে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর উপস্থিতিতে এই চুক্তি (Peace treaty signed) স্বাক্ষরিত হয় বৃহস্পতিবার ভোরে। এই MoU চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নয়— বরং এটি একটি কাঠামোগত রাজনৈতিক সমঝোতা। এর পর শান্তি ফেরে না কি সেটাই দেখার বলছে তেহরান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সমঝোতা পত্রে স্বাক্ষর করেছেন। তবে এই স্বাক্ষর ডিজিটাল (Digital) পদ্ধতিতে হয়েছে বলে খবর। আগে ঠিক হয়েছিল, আগামী ১৯ জুন সুইৎজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে সব সই-সাবুদ পর্ব সম্পন্ন হবে। উপস্থিত থাকার কথা ছিল দুই দেশের প্রতিনিধিদের। তার আগের দিনই সমঝোতা পত্রে সিলমোহর পড়ল। তাহলে কি জেনেভার কর্মসূচি বাতিল হবে? তা জানা যায়নি। তেহরানও এবিষয়ে কিছু স্পষ্ট করেনি।

দীর্ঘ সাড়ে তিন মাসেরও বেশি সংঘাতের জেরে রুদ্ধ হয়েছিল হরমুজ। এর ফলে গোটা বিশ্বে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছিল। ভারত (India) বারবার দেশবাসীকে বোঝাচ্ছিল যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সঙ্কট বাড়ছে। তাহলে এবার ধরে নেওয়াই যায় যে দুই দেশের যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালী খুলে যাওয়ার ফলে জ্বালানির দাম কমবে।

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিতে কী রয়েছে?
১) সব যুদ্ধক্ষেত্রে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ। এর আওতায় লেবানন-সহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলিও অন্তর্ভুক্ত।
২) আমেরিকা ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির মতো স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
৩) চূড়ান্ত চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের চারপাশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করবে।
৪) ইরান আগামী ৬০ দিনের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। এই সময়ে কোনও অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই জাহাজ চলাচলের সুযোগ থাকবে।
৫) ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু।
৬) নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পথ।
৭) ইরানের স্থগিত থাকা অর্থনেতিক লেনদেন পুনরায় চালু ও তেল রফতানিতে আংশিক ছাড়ের সম্ভাবনা
৮) তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ও সামরিক উত্তেজনা কমানো।
এই চুক্তিকে ‘ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং বিটুইন দ্য ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা অ্যান্ড দ্য ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান’ বলেও উল্লেখ করেছে আমেরিকা।

এই MoU চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি (Peace treaty signed) নয়— বরং এটি একটি কাঠামোগত রাজনৈতিক সমঝোতা। আগামী ৬০ দিনের আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে আরও দরকষাকষির জায়গা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, উভয় পক্ষের কাছে আলোচনার পথ খোলা থাকলেও প্রয়োজনে তারা সরে আসতেও পারে।

–

–

–
–
