Sunday, June 21, 2026

পার্টির টাকায় জিতেই বেইমানি! ঋতব্রত-সন্দীপনের নির্বাচনী খরচ ফাঁস কুণালের

Date:

Share post:

দলের টাকা নিয়ে ভোটে জিতে, এখন সেই দলেরই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলা! তৃণমূলের ‘বহিষ্কৃত’ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) এবং তাঁর অনুগামীদের এই ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে শনিবার বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) সরব হয়েছিলেন। চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই রবিবার নির্বাচন কমিশনের নথি ও টাকার অঙ্ক সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস করে দিলেন কুণাল। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, দলের ২৫ লক্ষ টাকা নিয়ে ভোটে জিতে এখন অন্য কারও ‘হাতে তামাক খেয়ে’ দলের তহবিলকে কালিমালিপ্ত করার বেইমানি বরদাস্ত করা হবে না।


X হ্যান্ডেলে ঋতব্রত এবং সন্দীপন সাহার নির্বাচনী খরচের খতিয়ান তুলে ধরে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ এনেছেন বেলেঘাটার বিধায়ক। তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী এই বিধায়করা দলের তহবিল থেকেই সিংহভাগ টাকা নিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোট খরচ হয়েছিল ২৬,৮৬,০৩৮ টাকা। এর মধ্যে ২৫ লক্ষ টাকাই এসেছে তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট থেকে। RTGS-HDFCHOO92656804 মারফত ‘পার্টি ডোনেশন’ হিসেবে এই টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছিল। সন্দীপন সাহার মোট নির্বাচনী খরচ ছিল ২৭,০১,৩৭২ টাকা। এর মধ্যেও ২৫ লক্ষ টাকাই এসেছে পার্টির তহবিল থেকে। আরও পড়ুন: NTA-এর নয়া নিয়মে দেশজুড়ে চলছে নিট

এই তথ্য সামনে এনে কুণাল ঘোষ নিজের এক্স হ্যান্ডেলে সরাসরি তিনটি তীক্ষ্ণ প্রশ্ন তোলেন তিনি, “1) পার্টির প্রতীক, পার্টিকর্মীদের আবেগ পরিশ্রম শুধু নয়, পার্টির টাকায় নির্বাচন করে এসে সেই পার্টির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টকে কালিমালিপ্ত করতে লজ্জা করল না? 2) টাকা খারাপ হলে নিল কেন? ভোটে ব্যবহার করল কেন? 3) যদি মনে করে টাকা খারাপ, এখনও পার্টিকে বা সরকারকে টাকা ফেরত দেয়নি কেন??? ” কুণাল লিখেছেন, “চাটন-ঋতর কাছ থেকে এই দ্বিচারিতা প্রত্যাশিত, কিন্তু সন্দীপন অসৎ সঙ্গে পড়ে আর কত নিচে নামবে? দ্বিচারিতা ও বিশ্বাসঘাতকতার একটা সীমা থাকা উচিত।”

তৃণমূলের সামগ্রিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা সম্পত্তি প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ অত্যন্ত পরিমাপক মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, এতদিনের দল, এত জনপ্রতিনিধি এবং কর্মীদের সাহায্যে আইনানুগ পদ্ধতিতেই দলের তহবিল থাকতে পারে। এই নিয়ে তাঁর বিস্তারিত ধারণা নেই এবং তিনি মন্তব্যও করতে চান না। তবে তাঁর মূল আপত্তি নীতিগত জায়গায়। কুণালের কথায়, “চাটন-ঋতরা নিজের জন্য টাকা নেবে, তারপর অন্যের হাতে তামাক খেয়ে সেই তহবিলকেই আক্রমণ করবে, এই বেইমানি চলতে পারে না।” এই তহবিল বিতর্ক আগামী দিনে ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার।

Related articles

উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে! ‘নাম-বিভ্রাট’ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে কী অনুরোধ কুণালের

শহরের সুপরিচিত ‘সোহরাবর্দি অ্যাভিনিউ’ (Suhrawardy Avenue)-এর নাম বদলে ‘গোপাল মুখার্জি রোড’ (Gopal Mukherjee Road) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা...

দিল্লি বিমানবন্দরে ৪৫ মিনিট আটকে রইল প্রধানমন্ত্রীর কনভয়, কিন্তু কেন?

ভিভিআইপি সংস্কৃতির চিরাচরিত প্রথা ভেঙে পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কলকাতা সফর শেষ করে...

বিমানবন্দরে অস্ত্র হাতে ঢোকা ব্যক্তি কে, হামলার নেপথ্যে কারা? ছবি পোস্ট করে ‘প্রমাণ’ অভিষেকের

তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দিল্লি থেকে ফেরার দিন বিমানবন্দরে অস্ত্র হাতে ঢোকা ব্যক্তি আসলে কে? কারা ছিল...

বাংলাতেও শুরু ট্রেন্ড: সোহরাবর্দি অ্যাভিনিউ-এর নাম বদল, সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গ দিবসেই

যেখানেই ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি সরকার, সেখানেই পুরনো নাম মুছে নয়া নামকরণের প্রবণতা দেখা যায় গেরুয়া শিবিরের। বাংলাতেও শুরু...