পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট (Budget) পেশ সোমবার। স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন প্রত্যাশা রাজ্যবাসীর। বিশেষ করে নজর ডিএ (DA) এবং পে কমিশনের (Pay Commission) উপর। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta) ১০ থেকে ১২ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করতে পারেন বলে জল্পনা। এই পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের কাছে কী প্রত্যাশা- জানালেন তৃণমূল (TMC) বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)।

নির্বাচনের প্রচারে বারবার বকেয়া ডিএ ও বেতন কমিশনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি (BJP)। তাদের সংকল্পপত্রেও সেকথা ছিল। এখন ক্ষমতায় আশার পরে প্রথম বাজেটে (Budget) স্বাভাবিকভাবেই আশায় রয়েছেন সরকারি কর্মীরা। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে ২০০৮ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ডিএ-র ক্ষেত্রে এখনও মাত্র ৬৪০০ কোটি টাকা মিটিয়েছে রাজ্য। এখনও ৩৫৩৭৭ কোটি টাকা মেটানোর চাপ রয়েছে সরকারের উপর। ডিএ মেটাতে ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল তৈরি গড়েছে রাজ্য। প্রশাসনিক মহলের মতে, রাজ্যের একমাত্র পথ রাজস্ব বৃদ্ধি। কিন্তু জিএসটি (GST) বাবদ রাজ্যের আয় বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এখনই আর আদায় বৃদ্ধি সম্ভব নয়। আবগারি খাতে রাজস্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নৈতিক সমর্থন নাও থাকতে পারে। এই পরিস্থিতে রাজ্যের হাতে রয়েছে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে ফাঁকফোকড় আটকানো। সঙ্গে জ্বালানি, খনিজ, বিদ্যুৎ বাবদ রাজস্ব বৃদ্ধি।

তবে, এখনই বিজেপি (BJP) সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে সমালোচনার পথে হাঁটতে রাজি নন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর কথায়, এখনই কিছু বলা উচিৎ নয়। আশা করব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে জন উন্নয়নমুখী প্রকল্পগুলি চালু করেছিলেন, সেগুলি বন্ধ করবে না বিজেপি সরকার। এরপরেই অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিজেপি সরকারের মন্ত্রীদের পরস্পর বিরোধী মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তৃণমূল বিধায়কের কথায়, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যারের আমলে যে সরকারি প্রকল্প তৈরি হয়েছিল, তা যেন বজায় থাকে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে শর্ত চাপিয়ে সেই সব প্রকল্প যেন বন্ধ না হয়।
একই সঙ্গে তৃণমূল জমানায় কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রসঙ্গ তুলে বিজেপিকে কটাক্ষ করেন কুণাল। তাঁর কথায়, আশা করব কেন্দ্রের কাছে বাংলার যে বিপুল বকেয়া রয়েছে সেটা আদায়ের চেষ্টা করবে এই সরকার। আবার সেটা যদি কেন্দ্র দেয়, তাহলে প্রমাণ হবে, যে এতদিন ইচ্ছাকৃত ভাবে বাংলাকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।

–

–

–

–

–
