পাওয়ার লিফটিংয়ে দেশকে সোনা কলকাতার কাউন্সিলরের

কতজনই বা জানেন পবিত্র বিশ্বাসের এই শখ, এই নেশার কথা! কতজনই বা জানেন তাঁর দীর্ঘদিনের সাধনা-সাফল্যের ইতিবৃত্ত! সকলেই তো জানেন, তিনি একজন রাজনীতিবিদ। সমাজসেবক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনিষ্ঠ অনুগামী।

মাইলের পর মাইল হেঁটে চলেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্লান্তি নেই। বিরাম নেই। কলকাতা পুরসভার 33 নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পবিত্র বিশ্বাস ‘প্রিয় দিদি’-কে দেখে আজও অঙ্গীকার করেন, এভাবেই অফুরান এনার্জি নিয়ে এগিয়ে চলবেন। সে রাজনীতির মঞ্চ হোক কিংবা শরীরচর্চার ময়দান – সব জায়গায়। তাই তো পবিত্রর কাছে ‘আইডল’ আর কেউ নন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী-ই তাঁর শরীরচর্চার বর্তমান অনুপ্রেরণা।

এখন তাঁর বয়স 56, কিন্তু যখন আঠারো ছিলেন, সেই তখন থেকেই শরীরচর্চায় অনাবিল উৎসাহ পবিত্র বিশ্বাসের। এখনও রোজ নিয়ম করে হাঁটেন, শরীরচর্চা করেন বেলেঘাটা অঞ্চলের এই কাউন্সিলর। রাজ্য ও জাতীয় স্তরে ভারোত্তলনে একাধিক সাফল্য তাঁর ড্রইংরুমের শো-কেজ আলোয় ভরিয়ে রাখে। কিন্তু 38 বছর ধরে এই সাধনার কোনও আন্তর্জাতিক সাফল্য আসছিল না। তাই মন খারাপের মাঝেও একরাশ স্বপ্ন আঁকড়েই চলতেন এই প্রৌঢ়। অবশেষে মাহেন্দ্রক্ষণ। নিষ্ঠা-সাধ-সাধনার ফল পেয়ে গেলেন সুদূর মঙ্গোলিয়ায় পৌঁছে। এশিয়ান পাওয়ার লিফটিং প্রতিযোগিতায় 83 কেজির ‘ইকুয়িপ্ট’ বিভাগে সোনা জিতে দেশকে গর্বের শিখরে বসিয়ে দিলেন এই বাঙালি। ভারতের হয়ে সোনাজয়ের যাত্রাপথে তিনি চিন, জাপান, কাজাগিস্তান, হংকংয়ের ‘হেভিওয়েট’ প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়েই এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। আজ অর্থাৎ ১১ সেপ্টেম্বর ফের পাওয়ার লিফটিংয়ের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছেন পবিত্র বিশ্বাস। এবার সামনে 83 কেজির ‘আন-ইকুইপ্ট’ বিভাগ।

সারা বছর ভোর পাঁচটায় ঘুম থেকে ওঠা। তারপর ঘণ্টা দু’য়েকের ব্যায়াম। তারপরেই তো বেরিয়ে পড়তে হয় এলাকার এ প্রান্ত, ও প্রান্তে। মানুষের মাঝে থেকেই উন্নতির মন্ত্রপাঠ করতে হয় অনবরত। এ সব তো আছেই। রাজনীতির ময়দানে সাফল্য তো তিনি দেখছেন সেই 1995 সাল থেকেই। এবার পাওয়ার লিফটিংয়ের সোনার মেডেল পবিত্র বিশ্বাসকে সাধনার সাফল্যও দেখিয়ে গেল।

“মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া আর কাকেই বা এই সাফল্য উৎসর্গ করতে পারি!”

কাউন্সিলর-ভারোত্তলক পবিত্র যখন এ কথা বলেন, তখন গোটা বাংলা, গোটা দেশ আরও অনেক অনেক সোনার স্বপ্ন দেখে সোনার ছেলের হাত ধরেই।