তৃণমূলে ফেরার প্রশ্নে শোভন কোথায় হোঁচট খাচ্ছেন?

বৃহস্পতিবার তপসিয়ার তৃণমূল ভবনের বৈঠকে শোভন চট্টোপাধ্যায় আসতে পারেন বলে গুঞ্জন ছিল। কিন্তু শোভন আসেননি। প্রশ্ন উঠেছে শোভনের তৃণমূলে যোগদান ঠিক কোন জায়গায় এসে হোঁচট খাচ্ছে?

শোভন যে বিজেপিতে থাকতে পারবেন না সেটা দিনের আলোর মত পরিষ্কার। বিজেপি তাঁর কাছে অতীত। পুরনো ঘরে ফিরতে তিনি আপাতত কিছু ‘কৌশল’ অবলম্বন করেছেন। তারই প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বান্ধবী বৈশাখীকে পাঠিয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে। আর তিনি নিজে সবান্ধবী গিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রীর কাছে। নিয়ে এসেছেন ফোঁটাও। কিন্তু তারপরও জট কাটছে না কেন?

এর পিছনে দুটি কারণ রয়েছে। প্রথম কারন, তৃণমূলের বেশ কিছু সিনিয়র নেতা যাঁরা শোভনের দল বদলে বিজেপিতে যাওয়া মেনে নিতে পারেননি। তাঁদের স্পষ্ট কথা, দলের বিরুদ্ধে বা দলের মধ্যে কোনও ব্যক্তি বা একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাঁর অজস্র ক্ষোভ থাকতেই পারে। প্রয়োজনে দলের মধ্যেই তা মিটিয়ে নেওয়া যেত। কিন্তু শোভন তা না করে শত্রুপক্ষের শিবিরে বসে নিজের দলের বিরুদ্ধেই কামান দেগেছেন। হাটখোলা করে দিয়েছেন দলের অন্দরের ঝগড়া। দলে তখন অস্বস্তি বেড়েছে। সে অস্বস্তি এত দ্রুত কাটার নয়।

দ্বিতীয় কারণ অবশ্যই বিজেপিতে যোগদান করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কামান দাগা। শুধু তো তাই নয়, মুকুল রায়ের সঙ্গে কোলাকুলি করার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মমতা সরকারকে সরাতে যা যা করার করব। কিন্তু দুদিন যেতেই শোভন বুঝতে পারলেন তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির কাছে রবাহুত। ফলে দূরত্ব বাড়তে থাকল যোগদানের কয়েকদিনের মধ্যেই। এরপর সারদা-নারদার জেরার মুখে পড়তে শোভন ছুটেছেন ভাইফোঁটা নিতে। কিন্তু তা সত্ত্বেও জট খুলছে না তার কারন, শোভন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি ছাড়ার ঘোষণা বা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর মমতার বিরুদ্ধে আনা প্রকাশ্য অভিযোগগুলির একটিও প্রত্যাহার করেননি। প্রকাশ্যে ঢাক বাজিয়ে যেভাবে তিনি তৃণমূল ছেড়েছিলেন, ঠিক সেভাবেই প্রকাশ্যে যতদিন না তিনি বিজেপি ছাড়ার কথা বলছেন কিংবা নেত্রীর বিরুদ্ধে বিষোদগার পর্ব ‘ভুল হয়েছে’ বলে জানাচ্ছেন, ততদিন তাঁর তৃণমূলে আসা আটকেই থাকবে। এ প্রসঙ্গে দলের এক সিনিয়র নেতা বলেছেন দলের মধ্যে থেকে ইস্যুভিত্তিক বহু ব্যাপারে বেশ কয়েক জন নেতা নানা মন্তব্য করেছেন। তাতে মনোমালিন্য হয়েছে, দূরত্ব বেড়েছে। কিন্তু তাঁরা দল ছাড়েননি। ফলে মনোমালিন্য মিটিয়ে তাঁদের মূলস্রোতে ফিরিয়ে নিতে অসুবিধা হয়নি। আর শোভন দলবদল করে নিজের সমস্যা নিজেই বাড়িয়েছেন। ফলে এখন ‘থুথু গেলা’ ছাড়া ফিরে আসার বিকল্প কোনও পথই নেই।