Wednesday, May 20, 2026

‘বিজেপি-মুক্ত’ বাংলা গড়ার লক্ষ্যে সফল মমতা, কণাদ দাশগুপ্তর কলম

Date:

Share post:

কণাদ দাশগুপ্ত

‘বিজেপি-মুক্ত বাংলা’ গড়ার লক্ষ্যে এক ধাপ এগিয়ে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

খড়্গপুর সদর, করিমপুর ও কালিয়াগঞ্জ আসনের ফলাফলে রাজ্যের ক্ষমতা বদলের কোনও সম্ভাবনা না থাকলেও এর ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করছে রাজ্য রাজনীতির ভবিষ্যত গতিবিধি। সে কারনেই তিন কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফল ঘিরে ছিলো চরম উত্তেজনা। আর সেই পরীক্ষায় সসন্মানে উত্তীর্ণ হয়েছে তৃণমূল।

ওদিকে, গেরুয়া-বেলুন এভাবে চুপসে যাবে, তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি বিজেপি। ৪৮ ঘন্টা আগেও বিজেপির তরফে জাতীয় সভাপতি অমিত শাহকে বলা হয়েছিলো, এ রাজ্যে বিজেপি তিন আসনেই জিতবে। শাহকে যিনি এই বার্তা দিয়েছিলেন, রাজনৈতিক মহলে তিনি স্বঘোষিত ‘ভোট-বিশেষজ্ঞ’। সেই বিশেষজ্ঞের ভোট-জ্ঞান নিয়েও প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।

সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, গোটা দেশে মোদি-শাহের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে।
একাধিক রাজ্য হাতছাড়া হয়েছে বিজেপির। মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনের মহা-নাটকে পদ্ম-বাহিনীর যে করুন পরিণতি ঘটেছে, তাতে মোদি-শাহ ভালই ধাক্কা খেয়েছেন। চুরমার হয়েছে অমিত শাহর ‘চাণক্য’ হওয়ার স্বপ্ন বা ইচ্ছা। দ্বিতীয়বার দাপটের সঙ্গে ক্ষমতায় ফেরার পর মোদি- শাহের রাজনৈতিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যখন নেহাতই মূর্খামি বলে মনে হচ্ছিলো, সেই সময় পর পর ‘ধাক্কা’-য় সে কাজ আর বোকামি বলে মনে হচ্ছে কই?

তথ্য বলছে, বিধানসভা হিসেব করলে গত ২ বছর ধরে ক্রমশ পায়ের তলার জমি হারাতে শুরু করেছে বিজেপি। যা আপাতত থেমেছে মহারাষ্ট্রে। এই বাজারেও মোদি-শাহকে মাত্র ৮০ ঘণ্টার মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে ‘সন্তুষ্ট’ থাকতে হয়েছে।

এই রাজ্যে লোকসভা ভোটের পর বঙ্গ-বিজেপির শীর্ষতলার লোকজন একুশের পর কে কোন দফতরের মন্ত্রী হবেন প্রায় ঠিক করে ফেলেছিলেন। সদ্য গেরুয়া-পৈতে লাগিয়ে বিজেপি সাজা স্বঘোষিত গেরুয়া বাহিনী তো সোশ্যাল মিডিয়া ভাসিয়ে দিচ্ছিলেন, ‘তৃণমূল শেষ-আমরাই আসছি’ বার্তায়। তিন উপ নির্বাচনের প্রচারের শেষদিনে কোনও এক সিপিএম-ফেরত সদ্য বিজেপি হওয়া অপরিনত একটি পোস্টে দাবি করেছিলেন করিমপুরে ১২,২৪৫ ভোটে গেরুয়া-প্রার্থী জিতছেন। বুঝে দেখুন এদের মূর্খামির লেভেলটা ! এই ধরনের লোকজনের হাতেই এই মুহূর্তে বঙ্গ-বিজেপির রাশ। আদি-বিজেপি এদের আচরণে বীতশ্রদ্ধ হয়ে সুযোগ খুঁজছিলেন নেতাদের জবাব দেওয়ার। দিয়ে দিয়েছেন। লোকসভা নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়ের দাপটে উড়ে গিয়েছিল বিরোধীরা। এ রাজ্যেও তার তাপ লেগেছিলো। তৃণমূল কংগ্রেসকে হারতে হয়েছে বেশ কিছু জেতা কেন্দ্রে। বিজেপির লাফালাফি তখন থেকেই শুরু হয়। পাড়ার রামা-শ্যামাও নিজেদের মোদি-শাহ-ভাগবত ভাবতে শুরু করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একদল অশিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিতের নেচে বেড়ানো দেখলে মনে হতো, কোন দল এ রাজ্যে ক্ষমতায় থাকবে বা ক্ষমতায় আসবে, তা বিজেপি’ই বোদ্ধারাই নির্ধারন করছে। জনগণের এ ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্রও ভূমিকা নেই।

সেই জবাবটাই বিজেপি এই তিন উপনির্বাচনে পেলো। ‘NRC হবেই’ বলে যারা বুক বাজাচ্ছিলো, বাংলার মানুষ তাদের বুঝিয়ে দিলেন, সব কিছু এত সহজ নয়। এবং একইসঙ্গে বুঝিয়ে দিলেন, যাকে-তাকে রাজার পার্ট দেওয়া যায়না। বাঁদরের হাতে খোলা তরবারি তুলে দিলে এর থেকে ভালো আর কি-ই বা হতে পারে ?

আরও পড়ুন-মহারাষ্ট্রে কেন যেতে পারছেন না, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

 

Related articles

উত্তরবঙ্গের স্বপ্নপূরণ হবে, বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকেই আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

প্রশাসনিক বৈঠক করতে উত্তরবঙ্গ পৌঁছলেন বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ বাগডোগরা...

আজই BSF-কে জমি হস্তান্তরের সম্ভাবনা, বিকেলে নবান্নে বৈঠক

দেশের সীমান্ত সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে BSF-কে জমি হস্তান্তরের কথা আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী( CM Suvendu Adhikari),...

ঘুষ কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার কর্নেল হিমাংশু বালি

সর্ষের মধ্যেই ভূত! ৫০ লক্ষ টাকার ঘুষ কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে কর্মরত সেনাবাহিনীর কর্নেল হিমাংশু...

জলপাইগুড়ি সমবায় ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যানের বিশেষ ছাড় প্রত্যাহার রাজ্যের 

জলপাইগুড়ি সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান পদে টানা তৃতীয়বার থাকার ক্ষেত্রে দেওয়া বিশেষ ছাড় প্রত্যাহার করল রাজ্য সরকার। সমবায়...