এক আসল প্রেমের গল্প

একটা প্রেমের গল্প আপনাদের জন্য। ব্রিটিশ শাসন। বাতাসে বারুদের গন্ধ। বিপ্লব তখনও নিষিদ্ধ শব্দ। চট্টগ্রামের আকাশে বাতাসে তখনও কান পাতলে শোনা যায় দ্রোহের গন্ধ। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের পড়ন্ত বেলায় শাসকের বিচার সভায় এক টুকরো বিষণ্ণ নিবেদন…
“তোকে ভালো লাগে। যদি ফিরে আসি, আমার জন্য অপেক্ষা করবি?”

আদালতের কুঠুরিতে দাঁড়িয়ে প্রোপোজ করেছিলেন রাজদ্রোহের অপরাধে বন্দি ফুটুদা। যে সে বন্দি নন। সূর্য অস্ত না যাওয়া ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরোধিতায় হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলেন। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন মামলায় মাষ্টারদা সূর্য সেন ধরা পরার পরে দলের দায়িত্ব যিনি নিয়েছিলেন সেই শহিদ বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার। প্রোপোজ করেছিলেন আর এক বন্দি কল্পনা দত্তকে।

না ফিরে আসা হয়নি ফুটুদা ওরফে তারকেশ্বর দস্তিদারের। বিচারে তারকেশ্বর দস্তিদারের ফাঁসির আদেশ হয়েছিল। মাষ্টারদা সূর্য সেনের সাথে একই দিনে একই সাথে বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদারের ফাঁসি হয়েছিল। বিচারে কল্পনা দত্তর কালাপানির সাজা হয়। যদিও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চেষ্টায় কালাপানির পরিবর্তে এখানেই কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়।

আজ ‘প্রোপোজ ডে’। তাই এক শ্রেষ্ঠ প্রপোজের গল্প শোনালাম।
৮ ই ফেব্রুয়ারি ছিল তাঁর মৃত্যুদিন। তবে তাঁদের ভালোবাসা অমর করে রেখেছে আমার জন্মভূমিকে।

কল্পনা লিখছেন, ধরা পড়ার পর মাস্টারদা, ফুটুদা আর আমাকে নিয়ে নতুন করে মামলা শুরু হয়েছিল। আমরা কাঠগড়ায় একসঙ্গে দাঁড়াতাম। সেই সময় একদিন ফুটুদা বলেছিলেন, তোকে ভালো লাগে। যদি ফিরে আসি, আমার জন্য অপেক্ষা করবি? আমার মৌনতায় হয়তো সম্মতি ছিল। কারন এর প্রায় দশ বছর পরে যখন জোশী আমাকে প্রোপোজ করে তখন আমি বলেছিলাম আমি যে তারকেশ্বর দস্তিদারকে কথা দিয়েছি!

ফুটুদা ফিরে আসেননি। ১৯৩৩-এ একইসঙ্গে মাস্টারদা সূর্য সেন এবং ফুটুদা, অর্থাৎ তারকেশ্বর দস্তিদারের ফাঁসির হুকুম হয়েছিল। দিনটি ছিল ১৪ই আগস্ট। | কল্পনা দত্তর ফুটুদা তারকেশ্বর দস্তিদারদের প্রাণহীন দেহ দুটিও তাঁদের পরিবারের হাতে তুলে দেয়নি ব্রিটিশ শাসক। দেহ বঙ্গোপসাগরে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। (শ্রমজীবীর সৌজন্যে)