ইস্তফাপত্র গ্রহণ না করে উপাচার্যকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ শিক্ষামন্ত্রীর

রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বসন্তোৎসবে কুরুচিকর রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন এবং ছাত্রছাত্রীদের বুক-পিঠে অশালীন শব্দে লেখা গান। বেনজির এই ঘটনার দায় নিয়ে পদ ছাড়ার জন্য ইস্তফাপত্র দিয়েছিলেন উপাচার্য সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরি। কিন্তু তাঁর ইস্তফা গৃহীত হয়নি। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দেন, উপাচার্যের ইস্তফাপত্র তিনি গ্রহণ করবেন না। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে তাঁকে কাজ চালিয়ে যেতে বলেন। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও উপাচার্যের ইস্তফার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে নারাজ। তাঁরা উপাচার্যের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ দেখান।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ উপাচার্য । শুধু বলেছেন, ভেবে দেখবেন।বৃহস্পতিবার বসন্তোৎসবে পালনে বিশ্বকবির নামাঙ্কিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রুচির অবনমনে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন অনেকেই। কেউ ক্ষোভে ফেটে পড়েন, কেউ বা চাপা ক্ষোভ বুকে চেপে রেখে হাহুতাশ প্রকাশ করেন।তাঁর দায়িত্বকালে এমন নজিরবিহীন একটি ঘটনা ঘটে যাওয়ার দায় নিয়ে উপাচার্য পদত্যাগ করতে চান। শুক্রবার রাতেই তিনি নিয়ম মেনে শিক্ষামন্ত্রী এবং আচার্য তথা রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। যদিও শনিবার সকাল পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী উপাচার্য সব্যসাচী বসুরায়চৌধুরির ইস্তফাপত্র পাননি বলে জানিয়েছিলেন।বিকালে ইস্তফাপত্র পাওয়ার কথা স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রী জানালেন, রবীন্দ্রভারতীর উপাচার্যের ইস্তফাপত্র গৃহীত হবে না। উলটে সব্যসাচী বসুরায়চৌধুরিকে আমি কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। তিনি কথা দিয়েছেন, কাজ চালিয়ে যাওয়ার।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও উপাচার্যের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত মোটেই মেনে নিতে পারছেন না। তাঁদের দাবি, উপাচার্য তাঁর পদেই থাকুন। তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বসন্তোৎসব এভাবে কলুষিত হওয়ার জন্য তাঁরা নিজেরাও লজ্জিত, বহুবার এর জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন ছাত্র সংসদের সদস্যরা। সেই একই কারণে তাঁরা উপাচার্যকে দায়িত্ব ছাড়তে দিতে চান না। কারণ, তাঁদের মতে, ‘বহিরাগত’ পড়ুয়াদের দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজের দায় কেনই বা উপাচার্য নেবেন, এই প্রশ্নই তুলেছেন পড়ুয়ারা।