বেনজির বঙ্গসন্তান, সোনার ছেলের সোনার পদক

বাঙালির গর্ব। বাংলার গর্ব। দেশের গর্ব।

ডাঃ ধৃতিমান মৈত্র। যাঁরা ছিঁচকাঁদুনের মতো ফাটা রেকর্ড বাজান আর বলে বেড়ান বাঙালির আর সে দিন নেই, তাঁদের জন্য ডাঃ মৈত্রর নামটাই যথেষ্ট। কলকাতার এই বাঙালি সন্তান চিকিৎসা বিদ্যার কৃতি ছাত্র সেটা তো বলাই বাহুল্য, কিন্তু নতুন রেকর্ড গড়ে তিনি এমন একটি বিষয়ে স্বর্ণপদক ছিনিয়ে আনলেন, যার কৃতিত্ব ভূ-ভারতে এর আগে কারও নেই। তিনি এমসিএইচ স্তন-এন্ডোক্রিন সার্জারি এবং সাধারণ সার্জারিতে নয়াদিল্লির এইমস(এআইআইএমএস)-এর MCh ডিগ্রি অর্জন করে স্বর্ণপদক ছিনিয়ে নেওয়া প্রথম চিকিৎসক। তবে কৃতিত্বের দিক থেকে এটাই শেষ নয়। এই বাংলার তিনিই প্রথম চিকিৎসক, যিনি এই বিষয়ে এমসিএইচ ডিগ্রি অর্জন করলেন। আর ভারতে তিনি সেই দ্বিতীয় ব্যক্তি, যিনি এই বিষয়ে এই ডিগ্রি মুঠোয় পুরলেন। তাই ধৃতিমানের গর্বিত শিক্ষক অনুরাগ শ্রীবাস্তব ধৃতিমানের সার্টিফিকেটে স্বাক্ষর করতে গিয়ে বলেছেন, শিক্ষক হিসাবে বলছি, এমন ছাত্র পাওয়াও গর্বের ব্যাপার।

বছর ৩৫-এর ধৃতিমান। এখনও সাত পাকে বাঁধা পড়েননি। সাউথ পয়েন্টে পড়াশোনা তারপর ক্যালকাটা মেডিক্যাল। সেখান থেকে এমবিবিএস, এমএস। দুরন্ত রেজাল্ট। এমবিবিএস, এমএস-এর স্বর্ণপদকও তাঁর বাড়ির ড্রয়িং রুমে। তারপর সেখানেই আরএমও এবং তারপর অ্যাসিসট্যান্ট প্রফেসরের চাকরি। আর বাইরে তখন চলেছে ক্লিনিকে প্রাইভেট প্র‍্যাকটিশ আর অভিজ্ঞতা অর্জনের কাজ। এমসিএইচ ধৃতিমানের জীবনে নিশ্চিত নতুন দিগন্ত খুলে দিল। সেটা ২০১৭ সাল। বাকিটা গর্বের। রান্না আর হিন্দি গানের পোকা ডাক্তার মৈত্র স্তন আর এন্ডোক্রিন সার্জারি নিয়ে উদ্ভাবনী কিছু কাজ করতে মুখিয়ে রয়েছেন। রয়েছে আরও পরিকল্পনা। টানা তিন বছর দিল্লিবাসী হয়ে কোয়ারান্টাইন পর্ব সেরে এখন নিজের চেনা শহর কলকাতায় কসবার যৌথ পরিবারের উঠোনে ফিরতে মুখিয়ে রয়েছেন। বললেন, আগে ফিরি, তারপর কাজে জয়েন করি…তারপর…

বাবার ক্যান্সারে মৃত্যু নতুন কিছু করার জেদটাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। এবার ফিরে তাই নতুন কিছু করতে চাই, ভাবতে চাই, ভাবাতে চাই। বাকিটা? ধৃতিমানের ভাষায়… হোক আরও কিছু, যা বাকি রেখে টেনে নিয়ে যায় পিছু পিছু…