মহামারি ভ্যাকসিনের মানব- ট্রায়ালে ডাক পেলেন দুর্গাপুরের শিক্ষক চিরঞ্জিৎ ধীবর

ICMR এ করা আবেদন হাতে চিরঞ্জীব ধীবর

চলতি ভাইরাসের ভ্যাকসিনের মানব ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য ICMR থেকে ডাক পেলেন দুর্গাপুরের বাসিন্দা চিরঞ্জিৎ ধীবর৷

ICMR থেকে মঙ্গলবার ফোন পেয়েছেন তিনি৷ তাঁকে চলতি ভাইরাসের ভ্যাকসিনের মানব ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য প্রস্তুত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে৷ তিনি ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে ICMR-এর কাছে মানব পরীক্ষার জন্য তাঁর শরীর ব্যবহার করার আবেদন করেছিলেন। ICMR-এর ফোন পাওয়ার পর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায়
চিরঞ্জিৎ ধীবর বলেছেন, “মানসিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত আমি৷” এই পরীক্ষার দিন এখনও তাঁকে জানানো হয়নি৷ তবে বলা হয়েছে, ওড়িশার ভুবনেশ্বর বা বিহারের পাটনার ICMR সেন্টারে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

পূর্ব বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের বাসিন্দা চিরঞ্জিৎ ধীবর একজন স্কুল শিক্ষক৷ RSS-এর সক্রিয় কর্মী৷ জানা গিয়েছে, ICMR-এর শীর্ষ স্তরের এক কর্তা তাঁর সঙ্গে দেখাও করেছেন এবং জানিয়েছেন, শীঘ্রই তাঁকে পাটনা বা ভুবনেশ্বরে যেতে হবে৷ চিরঞ্জিৎবাবু বলেছেন, পাটনায় তাঁর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হতে পারে৷ তিনি জানান, “আমি এপ্রিলে ICMR-এর কাছে এই অনুরোধ পাঠিয়েছিলাম। বলেছিলাম, আমি ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নিতে চাই৷ আমার এই আবেদনটি ছিলো মানবজাতির ভালোর জন্য একটা ছোট্ট প্রচেষ্টা। ভ্যাকসিনের পরীক্ষা তো মানুষের উপর করতেই হবে। কাউকে বা অন্য কাউকে এগিয়ে এসে ঝুঁকি নিতেই হবে। তাহলে আমি কেন না। এটা জাতির জন্য আমার সেবা। আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত, কোন চাপ নেই”৷ প্রথমে তাঁর বেশ কয়েকটি পরীক্ষা হবে৷ তারপর ঠিক হবে হিউম্যান ট্রায়ালের অনুমতি দেওয়া যাবে কি’না ।

জানা গিয়েছে, শুধু বাংলা থেকেই ৫০ জনেরও বেশি ICMR-এর কাছে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য আবেদন করেছিলেন৷ তবে আপাতত ধীবরই একমাত্র ব্যক্তি যাকে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ ডেকেছে৷

চিরঞ্জিতের বাবা তপন ধীবর বলেছেন, “প্রাথমিকভাবে সত্যিই আমরা চিন্তিত ছিলাম, কিন্তু এখন বুঝতে পারছি আমার ছেলে জাতির জন্য ঝুঁকি নিচ্ছে৷ আমি আমার ছেলের জন্য গর্বিত। আমি আশাবাদী যে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে এবং শীঘ্রই ভ্যাকসিন বাজারে আসবে”৷