সাত নম্বর বিয়েতেই বাধা! ১৭ সন্তানের পিতা দিদারুলের ঠাঁই হল শ্রীঘরে

বয়স নয় নয় করে ষাটের ঘর ছুঁয়েছে। নিবাস মধ্যপ্রাচ্যের কাতারে। ছুটিতে একেকবার দেশে আসলে থাকেন কমপক্ষে ৬ মাস। সংসারে স্ত্রীর সংখ্যাও নেহাত কম নয়, মাত্র ৬ টি। নারীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলতে তার জুড়ি মেলা ভার।
যখনই দেশে আসেন, তখন একবার হলেও নিজের স্টাইলে ‘বিয়ে’র পিঁড়িতে বসে যান। যদিও সব বিয়ে টেকে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাসর ঘরের ফুলসজ্জার ঘ্রাণ শেষ হতেই বেজে যায় তালাকের ঘণ্টা।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালির কধুরখীল গ্রামের দারোগা বাড়ির বিয়ে পাগল দিদারুল ইসলামের গল্প মুখে মুখে ফেরে গ্রামের অলিতে গলিতে। অথচ তিনিই কিনা এখন শ্রীঘরে।
দু’র্নীতি দমন কমিশনে জমা পড়া একটি অ’ভিযোগ থেকে জানা গিয়েছে, দিদারুল ফেঁসেছেন এক রোহিঙ্গা নারীকে পর পর দুবার বিয়ে করে। বিয়ের আগে তিনি এনআইডি থেকে শুরু করে অন্য কাগজপত্রও জালিয়াতি করেছেন। এসব অ’ভিযোগ পেয়ে দিদারুলের বি’রুদ্ধে ত’দন্ত শুরু করে দুদক জে’লা সমন্বিত কার্যালয় চট্টগ্রাম-২।
গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন , অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে এক রোহিঙ্গা নারীকে চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে আসেন দিদারুল। এরপর বিয়ে ছাড়াই ওই নারীর সঙ্গে থাকতে শুরু করেন তিনি। পরে ২০১৮ সালের ২১ জুন ওই নারীকে ২০০ টাকা স্ট্যাম্পের হলফনামায় স্বাক্ষর করে বিয়ে করেন তিনি। কিন্তু ১০ দিনের মা’থায় হঠাৎ তাকে তালাক দেন। তালাকের কিছুদিন পর আবারও ওই নারীর সঙ্গে ‘সংসার’ শুরু করেন তিনি। বিষয়টি জানাজানি হলে পরে আবারও তিনি বিয়ে করতে বাধ্য হন ওই রোহিঙ্গা নারীকে। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর জন্ম নেয় একটি পুত্রসন্তান।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রচলিত আইনকানুন না মেনেই রোহিঙ্গা নারীকে বিয়ে করেন প্রবাসী দিদারুল ইসলাম। সেখানে ভুয়ো ঠিকানা ও সনদ জালিয়াতি করে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে জাল পাসপোর্টও করা হয়েছে।
বর্তমানে কোতোয়ালী থানার জামালখান রোড এলাকায় থাকেন দিদারুল। ছয় স্ত্রী মিলিয়ে তিনি ১৭ সন্তানের পিতা।
সাত নম্বর স্ত্রীকে বিয়ে করার জন্য দিদারুল কক্সবাজার সদর থানার ১২ নম্বর ওয়ার্ডে দক্ষিণ কলাতলী এলাকায় হাজির হয়েছিলেন । তার বি’রুদ্ধে অভিযোগ আসার পর ত’দন্ত করে কমিশন যে রিপোর্ট দিয়েছে তাতেই আপাতত তার শ্রীঘরে ঠাঁই হয়েছে । যদিও এর শেষ দেখে ছাড়তে চান ষাটের যুবক! কেননা সাত নম্বর স্ত্রীকে যে তাকে বিয়ে করতেই হবে ।