ভুয়ো সংস্থার খপ্পরে পড়ে প্রাণ গেলো করোনা আক্রান্তের! পুরোটা জানলে চমকে উঠবেন

শরীরে বেশকিছু উপসর্গ নিয়ে ভুগতে থাকা দক্ষিণ কলকাতার নাকতলার বাসিন্দা বিমল সিনহা করোনা সন্দেহে নমুনা পরীক্ষার জন্য একটি ওয়েবসাইট মারফৎ একটি অনলাইন সংস্থার খোঁজ পান। পরিবারের লোক বিমলবাবুর নমুনা পরীক্ষার জন্য যোগাযোগ করেছিলেন ওই অনলাইন সংস্থার সঙ্গে। অনলাইন সংস্থার দাবি ছিল, তারা নাকি ICMR অনুমোদিত কোভিড-১৯ টেস্ট করার জন্য একটি বেসরকারি সংস্থা।

বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে এরপর টেস্ট ফি হিসেবে অনলাইনে ৮ হাজার টাকা পেমেন্টও করেছিলেন বিমল সিনহা। এরপর তাঁর লালারসের নমুনা সংগ্রহ করতে বাড়িতে লোক এসেছিল। অসুস্থ ব্যক্তির লালারস ও রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়া হয়। এবং বলা হয় ৭২ ঘন্টার মধ্যে ওয়েবসাইটে রিপোর্ট জানিয়ে দেওয়া হবে।

প্রতারণার এখানেই শেষ নয়। নির্দিষ্ট দিনে অনলাইনে ওই সংস্থা বিমল সিনহার রিপোর্টও জানায়! তাদের রিপোর্টে দেখা যায় বিমলবাবু “কোভিড-১৯ নেগেটিভ”। প্রবল শ্বাসকষ্ট ও ধুম জ্বর নিয়ে ততক্ষণে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরিবারের লোক বুঝতে পারেন রিপোর্টে সমস্যা আছে। তাঁরা আর ঝুঁকি না নিয়ে এবং অনলাইন সংস্থার রিপোর্টের উপর ভরসা না রেখে তড়িঘড়ি বিমলবাবুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় এম আর বাঙুর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে করোনা পরীক্ষা করে দেখা যায় রিপোর্ট পজিটিভ এবং ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছে। প্রকৃত চিকিৎসার সুযোগ না দিয়েই করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বিমল সিনহা।

স্বামীর মৃত্যুর পর বিমল সিনহার স্ত্রী সলমা সিনহা ও তাঁর কন্যা সীমা সিনহা গত ৩০ জুলাই নেতাজিনগর থানায় ওই ভুয়ো সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান। এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যা যা হয়েছে তার পুরোটাই তুলে ধরে লিখিত অভিযোগ হিসেবে পুলিশকে দেন।

সলমা ও তাঁর কন্যা সীমা পুলিশকে জানান, গত ২৪ জুলাই অনলাইন সার্চ করে ওই ওয়েবসাইটের খোঁজ পেয়েছিলেন তাঁরা। এরপর বিপদের মুখে বিশ্বাস করে ওই সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ৮ হাজার টাকা অগ্রিম হিসেবে অনলাইনে পেমেন্ট করেন। এরপর ২৫ তারিখ বাড়িতে লোক যায়। লালারস ও রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে। বলা হয়, রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে লগ ইন করে ২৭ তারিখ রিপোর্ট দেখা যাবে ওয়েবসাইটে। সেইমতো ২৭ তারিখ সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায় বিমল সিনহার রিপোর্ট। রিপোর্ট “নেগেটিভ”। ৩০ তারিখ অর্থাৎ গত বৃহস্পতিবার করোনায় তাঁর মৃত্যু হয় বিমল সিনহার।

এমন মারাত্মক অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্তে নেমে দক্ষিণ কলকাতার হাজরার একটি নামি ল্যাবের নাম পান, যেখানে বিমলবাবুর কোভিড টেস্ট করানো হয়েছে বলে এই ভুয়ো অনলাইন সংস্থা দাবি করেছিল বিমলবাবুর পরিবারের কাছে। হাজরার সেই ল্যাব জানিয়ে দেয়, বিমল সিনহা নামের কোনও ব্যাক্তির নমুনা পরীক্ষা করেনি তারা।

এরপর প্রতারণার ছক ধরে ফেলে পুলিশ। ফোন নম্বরের সূত্র ধরে নমুনা সংগ্রাহক যুবককে ধরে ফেলে পুলিশ। ধৃত অনিত পাড়িয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রতারণা চক্রের দুই মূল পাণ্ডা ইন্দ্রজিত ও বিশ্বজিতকে গ্রেফতার করে নেতাজি নগর থানার পুলিশ।