অতিমারি পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-এর, ওয়েবিনারে জানালেন বক্তারা

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-এর আক্ষরিক অর্থ করলে দাঁড়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আসলে এটি একটি অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তি যেটা কম্পিউটারের মাধ্যমে ব্যবহার করে এমন অনেক কাজ করা যায়, যেখানে হয়তো মানুষের পৌঁছনো সম্ভব নয়। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এই বিষয়ে লেখাপড়া বা এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে জীবনযাত্রাকে আরও সহজ করে তোলা যায় সে বিষয়ে একটি আলোচনার আয়োজন করেছিল সিআইআই আইডব্লিউএন। সংস্থার চেয়ারপার্সন সুচরিতা বসু জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহার করে মানব সভ্যতাকে আরও অগ্রগতির দিকে নিয়ে যাওয়া যায়। এবং সেটার উপলব্ধি সবচেয়ে বেশি হয়েছে এই অতিমারি পরিস্থিতিতে। ‘নিউ এজ কেরিয়ার’ শীর্ষক এই ওয়েবিনারে অংশগ্রহণ করেন বিশিষ্ট অধ্যাপক এবং তথ্য প্রযুক্তির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা। শিক্ষা জগতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজনীয়তা কতটা, কেন্দ্রের নতুন শিক্ষানীতিতে এর জন্য কতটা জায়গা রাখা হয়েছে, বাস্তব জীবনে এর প্রভাব কতখানি? এই বিষয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।

ওয়েবিনারের সঞ্চালক দীপঙ্কর চক্রবর্তীর কথায়, একসময় মনে করা হয়েছিল মেশিন সব কাজ করবে। আর যন্ত্রের জন্য কাজ হারাবে মানুষ। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে মানুষ নিজের বুদ্ধি দিয়ে যন্ত্রচালিত করছে। আর সেই বুদ্ধি দিয়েই তারা তৈরি করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। যে স্থান মানুষের অগম্য, সেখানে পৌঁছে যাচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স।

পঙ্কজ মিত্তাল বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার যে নতুন শিক্ষানীতি চালু করেছে, তাতে প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর যথেষ্ট জোর দেওয়া হয়েছে। আর এই প্রযুক্তির উন্নততর অবস্থাই হচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। সুতরাং শিক্ষাজগতে এর গুরুত্ব অপরিসীম। তাঁর মতে, আজকের যুগে শিক্ষকদের থেকেও অনেক বেশি ভাবে প্রযুক্তিকে নিজেদের কাজে লাগাতে পারেন পড়ুয়ারা।

সৈকত মৈত্র জানান, কীভাবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টালিজেন্সকে শিক্ষা জগতে ব্যবহার করা যায়। এর মাধ্যমে যেমন শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নতি ঘটানো সম্ভব, তেমন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে ব্যবহারিক জীবনে কাজে লাগাতেও শিখবেন ছাত্রছাত্রীরা।

সরজিৎ ঝা বলেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে কাজে লাগিয়ে ডেটা সংরক্ষণ করা যায়। এবং সেটা আজকের দিনে অত্যন্ত জরুরি। কারণ সাইবার ক্রাইমের মাধ্যমে যেভাবে তথ্য চুরি হচ্ছে সেটা আটকানোর জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অত্যন্ত কার্যকরী।

অনিন্দ্য দত্ত বলেন, বর্তমান জীবনে সব জায়গায় ব্যবহার করা হচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টালিজেন্সকে। এসি বাস থেকে শুরু করে ক্যামেরা- সব জায়গাতেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগছে। যেসব জায়গায় মানুষ পৌঁছতে পারছে না, সেখানেও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে ব্যবহার করে সহজেই কার্যসিদ্ধি করা যাচ্ছে।

পদ্মনাভ রামানুজনের কথায়, অতিমারি পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। এমনকী, যেখানে শিক্ষকরা পৌঁছতে পারেননি, সেখানে পৌঁছে গিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। তার কথায় অপরাধ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-এর গুরুত্ব অপরিসীম। অনেক একে কাজে লাগিয়েই প্রকৃত অপরাধীকে ধরা সম্ভব হচ্ছে।

শ্রাবণী রায়চৌধুরী জানান, সমাজবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আজকের দিনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আগে যেসব তথ্য সংগ্রহ করতে আগে শারীরিকভাবে উপস্থিত হতে হত, এখন সেখানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে সহজে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। যার ভিত্তি করে সহজ হচ্ছে গবেষণার কাজ।

রজিত ভট্টাচার্য জানান, ডেটা আর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের কাজ একেবারে আলাদা। তথ্য গত দিক থেকে যেটা পাওয়া যায়, বাস্তবের মাটিতে কাজ করতে গেলে দেখা যায় তা অনেকটাই আলাদা। আর এখানেই সাহায্য করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। তার মাধ্যমেই বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে কাজ করা সম্ভব হয়।

অঙ্কিত ছাপারিয়ার মতে, ব্যক্তিগত তথ্য এবং ডেটা সংরক্ষিত রাখার জন্য আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কীভাবে সেটা ব্যবহার করে ডেটা সংরক্ষণ করা যায় তা শিখতে হবে আজকের দিনের ছাত্র-ছাত্রীদের।

বক্তাদের সুচিন্তিত মতামতের জন্য ওয়েবিনারের শেষে তাঁদের ধন্যবাদ জানান দীপঙ্কর চক্রবর্তী এবং সুচরিতা বসু।

আরও পড়ুন : কোভিড ভ্যাকসিনের জন্য ৮০ হাজার কোটি খরচ করতে প্রস্তুত কেন্দ্র? প্রশ্ন পুনাওয়ালার