Wednesday, May 6, 2026

আর বেশি ‌সুদে ছাড় অসম্ভব: আর্থিক নীতির দায়িত্ব সরকারের, আদালতের নয়, জানাল কেন্দ্র

Date:

Share post:

দেশের আর্থিক তথা রাজস্ব নীতিতে নাক গলানো উচিত নয় শীর্ষ আদালতের- স্পষ্ট মত জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের তরফে একটি হলফনামা দিয়ে এই কথা জানানো হয়েছে। কেন্দ্র জানিয়েছে, আর্থিক নীতি নির্ধারণ করা কেন্দ্রের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে কোন বিষয়ে কী ছাড় দেওয়া হবে সেই বিষয়ে কোনও আদালতের নাক গলানো উচিত নয়। ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণের জন্য মোরাটোরিয়ামের মেয়াদে ইএমআই–এর উপর যে সুদ বকেয়া হয়েছে তাতে ছাড় দেওয়া ছাড়া এই মুহূর্তে আর ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ, তা দেশের জাতীয় অর্থনীতি ও ব্যাঙ্কিং পরিষেবার উপর প্রভাব ফেলবে।

গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ২ কোটি পর্যন্ত ঋণের জন্য মোরাটোরিয়ামের মেয়াদে ইএমআই–এর উপর যে সুদ বকেয়া হয়েছে তা গ্রাহককে দিতে হবে না। সোমবার, শীর্ষ আদালতের তরফে জানানো হয়, সুদের উপর ছাড় নিয়ে কেন্দ্র যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আশাব্যঞ্জক নয়। তাই এই বিষয়ে কেন্দ্রকে আরও ভাবনাচিন্তা করার পরামর্শ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। ব্যাঙ্কগুলির অবস্থান নিয়ে মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট বলে, আবেদনকারীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করতে ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। শুধু তাই নয়, রিয়েল এস্টেট ও পাওয়ার ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সমস্যা, তাদের ছাড়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন হলফনামা জমা দেওয়ার কথা বলে সুপ্রিম কোর্ট। তারই জবাবে কেন্দ্র জানিয়েছে, এভাবে আলাদা আলাদা সেক্টরের জন্য ছাড়ের দাবি করা যায় না। এর থেকে বেশি ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়।

করোনা সংক্রমণ ও লকডাউনে দেশে অর্থনৈতিক সঙ্কটে নির্দিষ্ট মেয়াদের ঋণের উপর মোরাটোরিয়াম ঘোষণা করেছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। তাতে বলা হয়েছিল, কোনও গ্রাহক চাইলে তিন মাস ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা স্থগিত রাখতে পারেন। পরে মোরাটোরিয়ামের মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানো হয়। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলি গ্রাহকদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, কিস্তির টাকা দেওয়া বন্ধ করলে বকেয়া আসল ও সুদ উভয়ের উপরেই ওই মেয়াদের জন্য সুদ দিতে হবে।
ব্যাঙ্কগুলির এই অবস্থানের বিরোধিতা করে মামলা দায়ের হয়েছিল শীর্ষ আদালতে। বিচারপতিরা বলেন, এই বাজারে ঋণ গ্রহীতাদের সুরাহা দেওয়া যাবে কি না তা নিয়ে জানাতে হবে মোদি সরকারকে।

তারপরেই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামায় পেশ করে বলা হয়েছে, বর্তমান সময়ে সরকার যদি খরচ বহন করে তা হলেই একমাত্র সব দিকে বাঁচে। কারণ, সুদের উপর যে সুদ জমা হয়েছে তার মোট পরিমাণ ৬ লক্ষ কোটি টাকা। ব্যাঙ্কগুলিকে সেই খরচ বহন করতে বললে তাদের নেট ওয়ার্থের একটা বড় অংশ চলে যাবে। ব্যাঙ্কগুলি বিপন্ন হয়ে পড়লে সাধারণ মানুষেরই ক্ষতি। তাই ২ কোটি টাকা পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট মেয়াদের ঋণের বকেয়া সুদের উপর সুদের টাকা সরকারই দেবে। কিন্তু কেন্দ্রের সেই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নয় শীর্ষ আদালত। ১৩ অক্টোবর ফের এই মামলার শুনানি।

আরও পড়ুন-ধর্ষণ রুখতে আরও কঠোর কেন্দ্র, রাজ্যগুলিকে পাঠানো হল কড়া নির্দেশিকা

Related articles

পদত্যাগ করব না, রাষ্ট্রপতি শাসন হলে রেকর্ড থাকুক: মমতা, নির্বাচন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাবে তৃণমূল

নির্বাচন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবে দল। বুধবার কালীঘাটে জয়ী বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে জানালেন তৃণমূল (TMC) সভানেত্রী মমতা...

ভোট-পরবর্তী অশান্তিতে ২০০ FIR, ৪৩৩ জন গ্রেফতার: আইন হাতে তুলে না নেওয়ার বার্তা DGP-র

ভোট-পরবর্তী অশান্তিতে মোট ২০০টি এফআইআর (FIR) হয়েছে। তার জেরে ৪৩৩ জনকে গ্রেফতার ও কমপক্ষে ১১০০ জনকে আটক করা...

বিজেপিকে শুভেচ্ছা দেবের! কী জানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ

রাজ্যে প্রথমবার ক্ষমতায় আসছে বিজেপি (BJP)। চলছে পালাবদলের রাজনীতি। এর মধ্যেই তৃণমূল সাংসদ-অভিনেতা দেবের (MP-Actor Dev) একটি পোস্ট...

পুলিৎজারে লক্ষ্যভেদ ২ ভারতীয় সাংবাদিকের: স্বীকৃতি সাইবার জালিয়াতির রহস্যভেদের

ডিজিটাল নজরদারি ও সাইবার ক্রাইমের পর্দাফাঁস করে অস্কার হিসেবে পরিচিত পুলিৎজার পুরস্কার (Pulitzer Award) পেলেন দুই ভারতীয় সাংবাদিক...