পর্ণশ্রীতে প্রোমোটারের রহস্যমৃত্যু, সিঁড়ির রেলিং থেকে উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ

বেহালা পর্ণশ্রীতে প্রোমোটারের রহস্যমৃত্যু। সিঁড়ির রেলিং থেকে উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ। পরিবারের অভিযোগ খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁকে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে নেমেছে পর্ণশ্রী থানার পুলিশ।

শুক্রবার সন্ধেয়, পর্ণশ্রীর মহারানি ইন্দিরা দেবী রোডের একটি আবাসনে ঘটেছে ঘটনাটি। মৃত ওই প্রোমোটারের নাম ইন্দ্রজিত দাস। পরিবার সূত্রে খবর, শুক্রবার সন্ধেয় ইন্দ্রজিত বাবুর স্ত্রী ও মেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে গিয়েছিলেন বেহালা থানা মোড়ে। বাড়িতে একাই ছিলেন ইন্দ্রজিত বাবু। আধ ঘণ্টা পর বাড়িতে ফিরে তাঁকে খুঁজে পাননি তাঁর স্ত্রী। পরিবার সূত্রে খবর, খুঁজতে খুঁজতে চারতলার সিঁড়ির রেলিংয়ে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান তাঁরা। সেই সময়ও জীবিত ছিলেন ইন্দ্রজিতবাবু। বড় মেয়েকে কিছু একটা বলার চেষ্টাও করছিলেন কিন্তু বলে উঠতে পারেননি। কারুর নাম বলতে চাইছিলেন কিনা তা স্পষ্ট নয়। এমনটাই জানিয়েছেন ইন্দ্রজিত বাবুর স্ত্রী।

আরও পড়ুন : আনন্দপুরকাণ্ডে নয়া মোড়, অভিযোগকারিনী তরুণীর বিরুদ্ধেই মামলা রুজু পুলিশের

আরও পড়ুন : ভিন সম্প্রদায়ের প্রেম, দিল্লিতে তরুণকে পিটিয়ে খুন প্রেমিকার দাদাদের

ঘটনায় প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার অভিযোগ রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। যদিও, পরিবারের অভিযোগ, ইন্দ্রজিত বাবুকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিবার জানিয়েছে, ২০১৭ সালে এক বাইক দুর্ঘটনায় ইন্দ্রজিতবাবুর ডান পায়ের হাড় সরে যায়। ভেঙে যায় কলারবোন। তারপর থেকেই কার্যত গৃহবন্দি জীবনযাপন করছেন তিনি। স্ত্রী বা মেয়েদের সাহায্য ছাড়া নিজে একা একা হাঁটাচলা করতে পারতেন না।

পরিবার জানিয়েছে, তিনি অন্যের সাহায্য ছাড়া হাঁটাচলা করতে পারতেন না, এক ঘর থেকে অন্য ঘর এমনকী বাথরুমেও যেতে পারতেন না। প্রশ্ন উঠছে, এমন একজন মানুষ কীভাবে তিন তলা থেকে চারতলায় সিঁড়ি ভেঙে উঠলেন? আর তিনি একা উঠলেন না, সঙ্গে একটা ভারি কাঠের চেয়ার বয়ে নিয়ে গিয়ে, সিঁড়ির রেলিং থেকে গলায় ফাঁস লাগালেন। মাত্র আধঘন্টায় কারোর একার পক্ষে এতকিছু সম্ভব হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে প্রোমোটারের পরিবার। ঘটনার পিছনে প্রমোটিং সংক্রান্ত বিবাদ ছাড়াও পুরনো কোনও বিবাদও থাকতে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের।