বেনজির, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রীর

বেনজির!

এমনটাই বোধহয় বাকি ছিলো, এবার তাও হলো৷ সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতির বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধে’ নামলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস জগনমোহন রেড্ডি।

শুধুই মুখে অভিযোগ আনা নয়, অভিযোগের কথা দেশের প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে’কে ৮ পাতার চিঠি দিয়েই জানিয়েছেন অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী।

দেশের পরবর্তী প্রধান বিচারপতির দৌড়ে এগিয়ে থাকা বিচারপতি এন ভি রামানার বিরুদ্ধেই মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন জগনমোহন৷ হাইকোর্টের কয়েকজন বিচারপতির কাজের রোস্টার-সহ বিচার প্রক্রিয়ার উপর বিচারপতি রামানা প্রভাব খাটাচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ জগনমোহনের।
বিচারপতি এন ভি রামানার সঙ্গে বিরোধী দলনেতা টিডিপির চন্দ্রবাবু নাইডুর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলেও ৮ পাতার ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিরোধী দলের দুর্নীতি সংক্রান্ত বহু মামলা-সহ অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের বহু সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছে এই চিঠিতে। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্ট পরিকল্পিতভাবে রায় দিয়েছে বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। বিচারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত পদাধিকারীদের বিরুদ্ধে যে সব দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলছে, সেগুলিও বিচারপতি রামানা প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলে দাবি জগনমোহনের।

প্রসঙ্গত, গত সেপ্টেম্বর মাসে বিচারপতি এন ভি রামানা এক বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, “নিজের পক্ষ নিয়ে কথা বলতে বিচারপতিরা আত্ম-সংযত হয়ে থাকেন। তাই বর্তমানে তাঁদেরই সমালোচনায় বিদ্ধ করে নিশানা করা হচ্ছে৷ বিষয়টি সোশাল মিডিয়া এবং প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে আরও জটিল হয়েছে। বিচারপতিরা এখন সোশাল মিডিয়ায় চর্চা বিষয় এবং অপবাদজনকপোস্টের শিকার হচ্ছেন।”
এরপরই গত বৃহস্পতিবারই প্রথম
তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন জগনমোহন।
অভিযোগে অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী জগনমোহন রেড্ডি বলেছেন, তেলুগু দেশম পার্টির হয়ে কাজ করছেন বিচারপতি এন ভি রামানা। অন্ধ্রের বিরোধী দলনেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর সঙ্গে ওই বিচারপতির খুব ভাল সম্পর্ক রয়েছে বলেই অভিযোগ তাঁর। ওই বিচারপতি নিজের প্রভাব খাটিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের বিচারকদেরও নিজের দিকে করে নিয়েছেন। ফলে তাঁরাও সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। চিঠির সঙ্গে বেশ কিছু নথি দিয়ে নিজের অভিযোগের সারবত্তা প্রমাণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নথি দিয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, বারবার সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প বন্ধ করার জন্য তেলুগু দেশম পার্টির পক্ষে রায় দিয়েছেন বিচারকরা। চন্দ্রবাবু নাইডু মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ২০১৪ সালের জুন থেকে ২০১৯-এর মে মাস পর্যন্ত৷ ওই সময়ে যেসব দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল তার তদন্তের ক্ষেত্রেও হস্তক্ষেও করেছেন বিচারপতিরা- এমনটাই অভিযোগ জগনমোহনের।
রাজ্যের প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেল ডি শ্রীনিবাসের বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত মামলাতেও হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়ে রেখেছে বলে অভিযোগ ওয়াই এস আর কংগ্রেস প্রধানের। প্রধান বিচারপতিকে লেখা চিঠিতে বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আর্জি ও বিষয়টিতে উপযুক্ত হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।