এবার ঝাড়খন্ড, বন্ধুর কপালে বন্দুক ঠেকিয়ে নাবালিকাকে গণধর্ষণ

হাথরসের রেশ এখনও কাটেনি। নৃশংস সেই ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা ভারত। দোষীদের কড়া শাস্তির দাবিতে চলছে প্রতিবাদ। ধর্ষণের মতো বিকৃত মানসিকতার লাগাম টানতে রাজ্য গুলিকে আরও কড়া হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এতকিছুর মাঝে ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খন্ডে। প্রেমিকের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হতে হল নাবালিকাকে। খুনের ভয় দেখিয়ে গানপয়েন্টে রেখে নাবালিকাকে গণধর্ষণ করল অভিযুক্তরা। এই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই ৫ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে ঝাড়খন্ড পুলিশ। অভিযুক্তদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি পিস্তল ও দুটি কার্তুজ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৭ অক্টোবর ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়খন্ডের জামশেদপুরের বাগবেড়া থানা এলাকায়। তথ্য অনুযায়ী ওই দিন সন্ধ্যায় ২ নাবালিকা তাদের প্রেমিকের সঙ্গে এক নির্জন জায়গায় বেড়াতে যায়। তাদেরকে দেখে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় অন্য দুই স্থানীয় যুবক। এরপর বন্দুকের ভয় দেখিয়ে ওই দুই নাবালিকার প্রেমিকদের ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যেতে বলে তারা। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পর অন্য আরও তিন যুবক সেখানে আসেন। ওই তিন যুবক এক নাবালিকার কপালে বন্দুক ধরে। ভয় দেখিয়ে অন্য আর এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে বাকি দুইজন। এরপর ওই পাঁচ অভিযুক্ত দুই নাবালিকাকে জঙ্গলের মধ্যে ফেলে রেখে চলে যায়। সঙ্গে হুমকি দেওয়া হয় এই ঘটনার কথা বাইরে প্রকাশ করলে খুন করে দেওয়া হবে।

এরপর কোনওমতে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে স্থানীয় ব্যক্তিদের সামনে গোটা ঘটনার কথা প্রকাশ করে ওই দুই নাবালিকা। স্থানীয়রাই দ্রুত পুলিশকে জানায় বিষয়টি। বাগবেড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নাবালিকাদের থানায় নিয়ে যায় এবং তাদের বয়ানের ভিত্তিতে দায়ের করা হয় মামলা। ঘটনার তদন্তের জন্য ডিএসপি নেতৃত্বে তৈরি করা হয় বিশেষ টিম। পাশাপাশি মেডিকেল টেস্টে এক নাবালিকার শরীরে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। গোটা ঘটনার তদন্তে নেমে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ৫ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে ঝাড়খন্ড পুলিশ।

আরও পড়ুন: যোগী থেকে গেহলট, অমানবিক রাজনীতিকদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাড়ান ভোটাররা, অভিজিৎ ঘোষের কলম

প্রসঙ্গত, দেশজুড়ে একের পর এক নৃশংস ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা ভারত। সাম্প্রতিক হাথরস কান্ড ও রাজস্থানে গণধর্ষণ কান্ডের জেরে যথেষ্ট চাপে পড়েছে সরকার। দেশব্যাপী ক্রমাগতভাবে বেড়ে চলা ধর্ষণের মতো ঘটনায় লাগাম টানতে রাজ্যগুলিকে সম্প্রতি করা নির্দেশিকা পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। যেখানে জানানো হয়েছে ধর্ষণের মতো কোনও অভিযোগ উঠলে অতি দ্রুততার তদন্ত করার জন্য। তদন্তে কোনওরকম গড়িমশির ঘটনা ঘটলে দায়িত্বে থাকা পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে ধর্ষণের মতো ঘটনায় কোন থানা এলাকায় সেটি ঘটেছে তা বিচার্য নয়। যে কোনও থানাতেই অভিযোগ নিতে হবে পুলিশকে। মামলার তদন্তে কেন্দ্রীয় ডেটাবেস ব্যবহার করার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে রাজ্য প্রশাসনকে। তবে এতকিছুর পরও ধর্ষণের মতো বিকৃত মানসিক ঘটনায় লাগাম পরানো যাচ্ছে না কোনওভাবেই।