বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেলেন কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী-পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি

“একটা গণতান্ত্রিক দেশে ডিটেনশন কতদিন চলতে পারে? আমরা সেটা জানতে চাই।” জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতির গৃহবন্দি অবস্থা প্রসঙ্গে এই ভাষাতেই সম্প্রতি কেন্দ্রকে তোপ দেগে ছিল সুপ্রিম কোর্ট। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দরবার করার জন্য মেহবুবা কন্যা ইলতিজা মুফতিকে পরামর্শও দিয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালত।

অনেক আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে মুক্তি। এক বছরের বেশি সময়ের পর আজ, মঙ্গলবার বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেলেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি। জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনের মুখপাত্র রোহিত কানসাল এই খবর জানান। এরপরই রাতে মেহবুবার টুইটার থেকেই টুইট করে এই খবর নিশ্চিত করেন তাঁর মেয়ে ইলতিজা মুফতি। তবে বন্দিদশা কাটলেও মেহবুবা মুফতি কোনও রাজনৈতিক সভায় যোগ দেওয়ার অনুমতি এখনও মেলেনি প্রশাসন বা আদালতের তরফে।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দাদের জন্য ৩৭০ ধারা বাতিলের পর থেকে মেহবুবা মুফতিকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। জম্মু-কাশ্মীর পাবলিক সিকিউরিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী যে কোনও মানুষকে বিনাবিচারে দু’বছর পর্যন্ত বন্দি রাখতে পারে। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই মেহবুবা মুফতিকে মুক্তি দেওয়া হলো। ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট মেহবুবা মুফতিকে গৃহবন্দি করা হয়। তারপর তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

আরও পড়ুন- লকেট, অগ্নিমিত্রা, অনুপম, এবার কোভিডে আক্রান্ত জয় হাসপাতালে

গতবছর ৫ অগস্ট জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদার তকমা প্রত্যাহারের ঠিক আগে আটক করা হয়েছিল ভূস্বর্গের রাজনৈতির নেতা-নেত্রীদের। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন মেহবুবা মুফতিও। তাঁর কন্যা ইলতিজা মুফতি শীর্ষ আদালতে যে আবেদন জানিয়েছিলেন, তাতে রিট পিটিশনে সংশোধন চাওয়া হয়েছিল। রিট পিটিশনে বিভিন্ন গ্রাউন্ডে মুফতির ডিটেনশনকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি ”বেআইনিভাবে মুফতিকে আটক করে রাখার জন্য” ক্ষতিপূরণ এবং মামলার খরচও দাবি করা হয় পিটিশনে।

এর আগে প্রায় আট মাস ”গৃহবন্দি” থাকার পর গত মার্চে মুক্তি পান জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। এবার মুক্ত হলেন মেহেবুবা মুফতি। এই খবরে খুশি তাঁর রাজনৈতিক অনুগামীরা।

আরও পড়ুন- চিকিৎসায় সামান্য  সাড়া, বাইপ্যাপ সাপোর্ট খোলা হলেও বিপন্মুক্ত নন সৌমিত্র