মাত্র ১০০ টাকার জন্য সরকারী বাসের চালককে পিষে মারল অন্য বাসের চালক

দুই বাস চালকের ঝামেলায় প্রাণ গেল একজনের। শুক্রবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে কাশীপুরের চিড়িয়ামোড়ে। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে ঘাতক বাসের চালককে।

আরও পড়ুন : ঘণ্টাখানেকের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে মধ্য কলকাতার বিধ্বংসী আগুন, মৃত ২

পুলিশ সূত্রে খবর, হাওড়া-ব্যারাকপুর রুটের এস-১২ বাস চালাচ্ছিলেন পূর্ণেন্দু নন্দী নামে এক ব্যক্তি। উল্টোদিক থেকে আসছিল, ৭৮ নম্বর রুটের একটি বাস। অভিযোগ, চিড়িয়ামোড়ে সিগন্যালে দাঁড়ানোর সময় ৭৮ নম্বর বাসটি সজোরে ধাক্কা মারে এস-১২ টিকে। যার কারণে ভেঙে যায় বাসের পূর্ণেন্দু নন্দীর বাসের লুকিং গ্লাস। অগত্যা বাস থেকে নেমে আসেন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বেশ কিছুক্ষণ দুই বাসের চালকের মধ্যে বচসা চলে। বাসের লুকিং গ্লাস ভেঙে যাওয়ার জন্য অন্য বাসের চালকের কাছ থেকে ১০০ টাকা ক্ষতিপূরণ চান পূর্ণেন্দু নন্দী।

আরও পড়ুন : “সম্পূর্ণ ঘটনাটা না জেনে বিচার করবেন না”, স্পাকাণ্ডে জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর বললেন সৌগত

ক্ষতিপূরণ দেওয়া তো দূরের কথা। অভিযোগ, সিগন্যাল খুলে গেলে, অন্য বাসটি নিয়ে পালাতে যায় সেই বাসের চালক। আর তা করতে গিয়েই, পূর্ণেন্দু বাবুর গায়ের ওপর দিয়েই চালিয়ে দেয় বাস। চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বাস চালক পূর্ণেন্দু নন্দীর। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত বাসের চালককে। আটক করা হয়েছে তার বাসটিকেও।

প্রসঙ্গত, মৃত পূর্ণেন্দু নন্দী হুগলির রিষড়ার বাসিন্দা ছিলেন। তার বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও একটি মেয়ে রয়েছে। তিনিই ছিলেন বাড়ির একমাত্র রোজগেরে সদস্য। প্রশ্ন উঠছে, শুধুমাত্র ১০০ টাকার জন্য একটা মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে? নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কারণ লুকিয়ে রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সবদিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আশেপাশের সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখার চেষ্টা চলছে।