‘কেউ গুলি চালাবে না বেটা’, মানবতা দিয়ে জঙ্গিকে আত্মসমর্পণ করালেন সেনা অফিসার

বয়স বছর কুড়ি। খালি গা, পরনে ট্রাউজার মৃত্যুভয়ে মুখ শুকিয়ে গিয়েছে। সদ্য জঙ্গি দলে যোগ দিয়েছে সে। উপত্যকায় এমনই এক জঙ্গিকে আত্মসমর্পণ করালো ভারতীয় সেনা। অবশ্য জম্মু কাশ্মীরের মাটিতে এই ঘটনা নতুন কিছু নয়। প্রতিদিনই উপত্যকার নানা প্রান্ত থেকে গ্রেপ্তার অথবা নিকেশ হচ্ছে হচ্ছে একাধিক জঙ্গি। তবে এখানে নতুন যা, তা হল এক সেনা অফিসারের মানবিক মুখ। উপত্যকার অন্দর থেকে জঙ্গিদের প্রতি ভারতীয় সেনার যে মানবিকতার ছবি এদিন উঠে এসেছে তা দেখে অবাক গোটা দেশ।

জম্মু-কাশ্মীরের তরুণ-যুবকদের ভুল বুঝিয়ে জঙ্গি দলে নাম লেখাতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে পাকিস্তান ও একাধিক জঙ্গিগোষ্ঠী। প্রায় প্রতিদিনই একাধিক যুবকের জঙ্গি দলে নাম লেখানো খবর পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি বাড়ি থেকে পালিয়ে জঙ্গি দলে নাম লিখিয়েছিল জাহাঙ্গীর নামের এক যুবক। যে ভিডিও এদিন প্রকাশ্যে এসেছে সেখানে দেখা গিয়েছে, এক সেনা অফিসার দূর থেকে আত্মসমর্পণ করতে বলছেন এক তরুণকে। ভয় আড়ষ্ট হয়ে যাওয়া সদ্য জঙ্গি দলে নাম লেখানো যুবককে সাহস দিতে বাকি সেনা জওয়ানদের গুলি না চালানোর নির্দেশ দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি ওই যুবককে উদ্দেশ্য করে সেনা অফিসারকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘এগিয়ে এসো কেউ কিছু করবে না। কেউ গুলি চালাবে না। তোমার কিচ্ছু হবে না বেটা।’ কিছুটা আশ্বস্ত হয়ে হাত উপরে তুলে এগিয়ে আসতে দেখা যায় ওই যুবককে। এরপর ওই তরুণকে পাশে বসিয়ে রেখে তিনি নির্দেশ দেন তরুণকে জল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে। পাশাপাশি বলেন, ‘ভুল করে ফেলেছ তুমি। এই ভুল আর করবে না।’

আরও পড়ুন: হাথরাস কাণ্ড: অভিযুক্তের বাড়ি থেকে ‘রক্তমাখা’ জামা উদ্ধার সিবিআইয়ের

ভারতীয় সেনার মানবিক এই ছবি রীতিমতো ভাইরাল হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পুত্রের জীবন বাঁচানোর জন্য সেনা জওয়ানদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরের পিতা। সঙ্গে এটাও জানিয়েছেন ছেলেকে আর জঙ্গি দলে ফিরে যেতে দেবেন না তিনি। অন্যদিকে সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই তরুণ চাদোরার বাসিন্দা। বেশ কিছুদিন ধরেই বাড়ি থেকে নিখোঁজ ছিল সে। থানায় ডায়েরিও করে তার পরিবার। পরে জানা যায় জঙ্গি দলে নাম লিখিয়েছে ওই তরুণ। এদিন তাকে আত্মসমর্পণ করানোর পাশাপাশি তার কাছ থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি এই প্রসঙ্গে এক সেনা কমান্ডার বলেন, উপত্যকার তরুণদের শুধু জঙ্গি কবল থেকে উদ্ধার নয়, তাদের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনাই সেনার লক্ষ্য। এই ভিডিও তারই উদাহরণ।